রাজধানীর আজিমপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে (বর্তমান অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স কলেজ) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশি লাঠিপেটার ঘটনা ঘটেছে। অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশি হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে শিক্ষার্থীরা তীব্র বিক্ষোভ করেন এবং অবিলম্বে অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- অধ্যক্ষের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজধানীর আজিমপুরে অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স কলেজের শিক্ষার্থীরা মধ্যরাতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
- আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মুখে কালো কাপড় বেঁধে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নতুন করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
- দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় অধ্যক্ষকে উদ্ধার করা হয়, যা নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ (বর্তমানে অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স কলেজ) ক্যাম্পাসে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনিক নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষের অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিপেচার্জ করে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন ছাত্রী আহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পুলিশের এমন বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শিক্ষার্থীরা মধ্যরাতে এবং পরদিন সকালে মুখে কালো কাপড় বেঁধে ক্যাম্পাসে অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তাদের ভাষa, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে পুলিশি হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে অধ্যক্ষ অবরুদ্ধ থাকার পর অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে তাকে কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। এই দীর্ঘ সময়ে কলেজ চত্বরে চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে এবং চারপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সাধারণ ছাত্রীরা অবিলম্বে অভিযুক্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং এই ন্যাক্কারজনক হামলার সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবি জানান।
শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের পুলিশি হস্তক্ষেপে দেশের সচেতন মহল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনিক সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে বলপ্রয়োগ করা হলে তা শিক্ষার্থীদের মাঝে আরও বেশি ক্ষোভের জন্ম দেয়, যা উচ্চশিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।