বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী আইন মেনে বৈধভাবে হরিণ, ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রাণী পালনের সুযোগ রয়েছে। বন বিভাগের অনুমোদন নিয়ে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে সরকারি চিড়িয়াখানা বা নিবন্ধিত খামার থেকে হরিণ কেনা যায়। এর জন্য কঠোর লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া, উপযুক্ত আবাসন ব্যবস্থা এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নিয়ম না মানলে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী যথাযথ লাইসেন্স নিয়ে বৈধভাবে হরিণ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী লালন-পালন করা সম্ভব।
- সরকারি চিড়িয়াখানা কিংবা বন বিভাগ অনুমোদিত নিবন্ধিত প্রজনন কেন্দ্র থেকেই কেবল বৈধ উপায়ে হরিণ কেনা ও সংগ্রহ করা যায়।
- প্রাণী পালনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, উন্নত খাদ্যতালিকা, নিয়মিত ভেটেরিনারি চিকিৎসা এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী নিশ্চিত করার বাধ্যতামূলক শর্ত রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশে শৌখিন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হরিণ পালনের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তবে বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী চাইলেই উন্মুক্ত বা অবৈধভাবে কোনো বন্যপ্রাণী নিজের হেফাজতে রাখা যায় না। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর বিধান অনুযায়ী, হরিণ, ময়ূর বা হাতি পালনের জন্য বন বিভাগ থেকে সুনির্দিষ্ট লাইসেন্স বা অনুমতিপত্র সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আবেদনকারীকে প্রথমে বন সংরক্ষকের দপ্তরে আবেদন করতে হয় এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়।
অনুমতি পাওয়ার পর হরিণ সংগ্রহের উৎস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ খোলা বাজার বা জঙ্গল থেকে হরিণ ধরতে পারবেন না। একমাত্র সরকারি চিড়িয়াখানা বা বন বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত নিবন্ধিত খামার ও প্রজনন কেন্দ্র থেকেই নির্দিষ্ট মূল্যে বৈধভাবে হরিণ কেনা যায়। ক্রয়ের সময় বন বিভাগের পক্ষ থেকে মালিকানা সংক্রান্ত বৈধ চালান বা ছাড়পত্র প্রদান করা হয়, যা পরবর্তীতে প্রমাণের জন্য সংরক্ষণ করতে হয়।
হরিণ পালনের ক্ষেত্রে খামার বা বাসাবাড়িতে প্রাণীটির উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা আইনি শর্তের অন্তর্ভুক্ত। হরিণের জন্য পর্যাপ্ত চারণভূমি, ছায়াঘেরা নিরাপদ আবাসন, সুপেয় পানি এবং পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। এছাড়া, নিয়মিত টিকাদান ও অসুস্থতার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জন দ্বারা চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। বন বিভাগের কর্মকর্তারা যেকোনো সময় খামার পরিদর্শন করে এসব শর্তের বাস্তবায়ন তদারকি করার ক্ষমতা রাখেন।
আইনের যথাযথ তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে হরিণ শিকার বা লালন-পালন করা হলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এ ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতন থেকে এবং সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কেবল হরিণ পালনের মতো উদ্যোগে এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।