হরমুজ বন্ধ, তেলের দাম বেড়ে প্রায় ১০৮ ডলার, বাংলাদেশে প্রভাব কতটা
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ ডলার ২১ সেন্ট বা ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১০৭ ডলার ৮২ সেন্টে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৩ ডলার ১৭ সেন্ট বা ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১০৩ ডলার ২২ সেন্ট হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ ডলার ২১ সেন্ট বা ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১০৭ ডলার ৮২ সেন্টে উঠেছে।
- ইরান জানিয়েছে, দেশটির উপকূলের কাছে এক ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নিহত ও চারজন নাবিক আহত হয়েছেন।
- ফলে বাড়তি দামে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা হলে সরকার যেমন চাপে পড়বে, তেমনি মূল্যস্ফীতিও বাড়বে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ ডলার ২১ সেন্ট বা ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১০৭ ডলার ৮২ সেন্টে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৩ ডলার ১৭ সেন্ট বা ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১০৩ ডলার ২২ সেন্ট হয়েছে।
সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হুতিরা নতুন হামলা করেছে। উপসাগরের জাহাজে ইরান হামলা করেছে। এসব ঘটনায় বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। হুতিদের হামলার জেরে সৌদি আরবের এক তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আজ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ব্যয় বেড়ে যাবে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে পরিবহন ব্যয়— প্রায় সবকিছুর দাম বেড়ে যায়। তাতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যায়।
ঢাকা চেম্বারের এক হিসাবে বলা হয়েছে, বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের মাসিক আমদানি ব্যয় ৭ থেকে ৮ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে সারা বছর এই ১০ ডলার বাড়তি দামে তেল কিনতে হলে বছরে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার বাড়তি ব্যয় হবে সরকারের।
এদিকে বাজার-বিশ্লেষকেরা বলছেন, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বেড়ে যাওয়ায় তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনেও হামলা করা হয়েছে। তবে হামলায় এ পাইপলাইন কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কত দিন তা বন্ধ থাকবে, বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।
সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোন হামলার পর ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ পাইপলাইন দিয়ে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানি করত। ফলে পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় বাজারে তেলের সরবরাহ কমে যাবে। সংবাদে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ঝুঁকিতে পড়েছে।
সৌদি আরবের তেল রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে, পাইপলাইন বন্ধ থাকলে ইয়ানবু বন্দরে যে মজুত আছে, তা দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের রপ্তানি চাহিদা মেটানো সম্ভব।
এদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গতকাল রোববার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান প্রদেশে হুতিদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বাড়ি ও একটি মসজিদের ভিডিও প্রকাশ করেছে। হুতিরা জানিয়েছে, তারা পাশের একটি প্রদেশে সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে যে জাহাজে হামলা করা হয়েছে, তাতে আগুন ধরে গেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, এতে জাহাজের নাবিকদের সরিয়ে নিতে হয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, দেশটির উপকূলের কাছে এক ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নিহত ও চারজন নাবিক আহত হয়েছেন।
ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতিরা গত শুক্রবার পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। দ্বীপটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তারা বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি ের মোট তেল সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশ এ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে।
সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। ফলে গত জুলাইয়ের পর এই প্রথম প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের আলোচনার জন্য আজ ওমানে যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর জুন মাসে অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়েছিল। তা ভেঙে যাওয়ার পর যুদ্ধ বন্ধে আর কোনো শান্তি আলোচনা শুরু হয়নি।
বাংরাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় রেকর্ড ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকায় (১ ডলার= ১২৩ টাকা) উঠেছে। রাজস্ব আয় কাঙ্ক্ষিত হারে বৃদ্ধি না পাওয়ায় এমনিতেই সরকারের ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। এর ওপর জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়া অনেকটা মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।
এর মধ্যে জ্বালানি তেলের আমদানি বাড়ানো হচ্ছে, সেই চালান আসতেও শুরু করেছে। তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বাড়তি আমদানি। ২০ সেপ্টেম্বরের পর জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়বে। ওই সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে।
বিষয়টা হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও আমদানি ব্যয়ে। বেশি দামে জ্বালানি কিনলে পরিবহন থেকে শুরু করে কৃষি ও শিল্প—সব খাতেই উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। সেই সঙ্গে জাহাজভাড়াসহ আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যায়। গত চার বছর ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়তি। ফলে বাড়তি দামে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা হলে সরকার যেমন চাপে পড়বে, তেমনি মূল্যস্ফীতিও বাড়বে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার প্রথম আলো-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।