লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

হঠাৎ যত্রতত্র ককটেল, পুলিশ ধরছে নিক্ষেপকারীদের নাকি সন্দেহভাজনদের?

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 08 নভেম্বর 2026, 06:01 বিকাল | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 54 বার পঠিত
হঠাৎ যত্রতত্র ককটেল, পুলিশ ধরছে নিক্ষেপকারীদের নাকি সন্দেহভাজনদের?
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

গত কয়েক দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়, যাত্রাবাড়ী ও সাভারসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ এবং অন্তত আটটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশি অভিযানে কিছু স্থানে সন্দেহভাজনদের আটক ও অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হলেও মূল নির্দেশদাতা ও অর্থদাতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও অন্তত আটটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে গত ৬ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে গভীর রাতেই খিলগাঁও আনসার সদর দফতর, আদাবর থানা ও শাহবাগের ডিউটি গাড়ি লক্ষ্য করে একাধিক ককটেল ছোড়া হয়।
  • পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কলাবাগান ও পুরোনো রমনা থানার সামনের বিস্ফোরণ মামলায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করেছে এবং তাদের দেওয়া তথ્યાদি অনুযায়ী ১৩টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে।
  • গত ৩০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কার্যালয়ের সামনে বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত রেজাউল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মাত্র ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে ভাড়ায় ককটেল নিক্ষেপ করানো হয়েছিল।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

সন্ধ্যার ব্যস্ততা তখনও শেষ হয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের টিএসসি এলাকায়, ঠিক তখনই পরপর দুটি বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো চত্বর। মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক। একে একে একই ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের পাশে, ভিসি চত্বর ও মুক্তি-গণতন্ত্র তোরণের সামনে। গত রবিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ের সামনেও বিস্ফোরিত হয় ককটেল। এর আগের দিনগুলোতেও যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা মোড়, সাভারের গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড, খিলগাঁও আনসার সদর দফতর, আদাবর থানা এবং শাহবাগের জুলাই চত্বরের পাশে একই কায়দায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হামলাকারীরা নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে চড়ে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গত কয়েক দিনে রাজধানীজুড়ে অন্তত আটটি বাসে অগ্নিসংযোগ এবং অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে গত ৬ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আদাবর, শাহবাগ, খিলগাঁও, বিমানবন্দর ও মিরপুরের কালশী এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বনানীর সেতু ভবন লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হলে গার্ড রুমের কাচ ভেঙে যায় এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। সুনির্দিষ্ট এই নাশকতাগুলো বিশ্লেষণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, পরিকল্পিতভাবে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করার জন্য একটি বিশেষ গোষ্ঠী এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। কখনও থানার সামনে, কখনও পুলিশ স্থাপনা বা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের আশপাশে এই ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে এসব ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা এবং গ্রেফতার প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর কলাবাগান এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের সময় পালানোর পথে চারজনকে আটক করে পুলিশ, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী রয়েছে বলে জানানো হয়। পরবর্তীতে তাদের স্বীকারোক্তিতে আরও ১০টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়। একইভাবে ২৩ অক্টোবর পুরোনো রমনা থানার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ের সামনে বিস্ফোরণের ঘটনায় রেজাউল ইসলাম নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। পুলিশ দাবি করে, মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়ায় ককটেল নিক্ষেপের চুক্তি করেছিল একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল।

এই ধারাবাহিক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত এবং আটককৃতদের সঙ্গে সরাসরি হামলার কতটুকু সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তা নিয়ে এখনও গভীর সংশয় রয়েছে। মাঠপর্যায়ে ককটেল নিক্ষেপকারী, অর্থদাতা এবং মূল নির্দেশদাতারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। পুলিশি অভিযানে কিছু ক্ষেত্রে সন্দেহভাজনদের আটক করা সম্ভব হলেও প্রকৃত মাস্টারমাইন্ডদের গ্রেফতারে দীর্ঘমেয়াদি ও নিবিড় গোয়েন্দা তদন্তের ওপর জোর দিচ্ছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং এই ধরনের ধারাবাহিক আতঙ্ক ছড়ানো রোধে কঠোর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ