৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"রেজিনগর উপনির্বাচনের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মাথায় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বুধবার সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ দিয়ে ভোট লুঠের অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি তিনি বিধানসভার কোনো কমিটির বৈঠকে না যাওয়া এবং বিধায়ক পদ ছাড়ার বিষয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলার ঘোষণা দেন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর রেজিনগর উপনির্বাচনের পরদিন রাজনীতি থেকে অবসরের ও বিধায়ক পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন।
- হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী তাকে নবান্নে ডেকে ৩০ হাজার ভোটে ছেলে গোলাম নবি আজাদের জয়ের আশ্বাস দিলেও পরে পুলিশ দিয়ে ভোট লুঠ করিয়েছেন।
- তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ভবিষ্যতে বিধানসভায় যোগ দিলেও যে অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকবেন, সেই অধিবেশনে তিনি অংশ নেবেন না।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের দিন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে পুলিশকর্তৃক আটকের ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মোড় এসেছে। বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নওদার বিতর্কিত এই বিধায়ক। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি রাজনীতি থেকে অবসরের তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভোট লুঠের গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচনের দিন সকালে। বাবার ছেড়ে দেওয়া এই আসনে AJUP-এর টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবি আজাদ। ছেলেকে জেতাতে সকাল থেকেই মাঠে নেমেছিলেন বিধায়ক। শক্তিপুরে ভোট দিতে যাওয়ার সময় এবং পরবর্তীতে রেজিনগরে দলের কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় বচসায় জড়ান তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তাকে আটক করে, যা পরবর্তীতে বড় রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, এর আগে নবান্নে ডেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে তার ছেলে ৩০ হাজার ভোটে জয়ী হবে। কিন্তু ভোটের দিন পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে সেই রায় পাল্টে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এত মিথ্যার মুখোমুখি তিনি হতে চান না। তাই বিধানসভায় যোগ দিলেও যেদিন মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন, সেদিন তিনি অধিবেশনে যাবেন না। এমনকি বিধায়ক পদে থাকবেন কি না, তা নওদার সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করবেন বলে জানান।
এদিকে হুমায়ুনের এই কান্নায় গলে না গিয়ে উল্টো তাকে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ এই ঘটনাকে 'কুমীরের কান্না' বলে অভিহিত করে বলেন, হুমায়ুন কবীরের কথায় বাংলার মানুষ আর ভুল করবে না। উপনির্বাচন কেন্দ্র করে এই রাজনৈতিক ডামাডোল এবং একজন হেভিওয়েট নেতার এমন আকস্মিক অবসরের ঘোষণা রাজ্যের বর্তমান রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার ABP Ananda-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।