হুতিদের শক্তি কোথায়, বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধে জড়িয়েও কেন পিছু হটল যুক্তরাষ্ট্র
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর শতকোটি ডলারের সামরিক অভিযান সত্ত্বেও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দমন করা সম্ভব হয়নি। আধুনিক ড্রোন, অ্যান্টি-শিপ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বাব এল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত অবস্থান ব্যবহার করে হুতিরা অসম যুদ্ধে আধিপত্য বজায় রেখেছে, যা পশ্চিমা পরাশক্তিকে তীব্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- হুতিদের ব্যবহৃত মাত্র ২ থেকে ২০ হাজার ডলারের সস্তা ড্রোন প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রতিটি ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ লাখ ডলার মূল্যের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যয় করতে হচ্ছে।
- বিশ্ব বাণিজ্যের ১২ শতাংশ পরিবাহিত হওয়া বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে ধারাবাহিক হামলার কারণে সুয়েজ খালের বিকল্প হিসেবে দীর্ঘ আফ্রিকা রুটে জাহাজ চলাচলে বৈশ্বিক পরিবহন খরচ বিপুল বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং মাটির নিচে বিস্তৃত সামরিক সুড়ঙ্গ ব্যবস্থার কারণে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর ব্যাপক বিমান হামলা সত্ত্বেও হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপণ সক্ষমতা ধ্বংস করা যায়নি।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক সামরিক জোট শতকোটি ডলারের অভিযান পরিচালনা করা সত্ত্বেও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের প্রতিরোধ ভেঙে দিতে পারেনি। গাজা সংঘাতের পটভূমিতে ইসরায়েল ও পশ্চিমা সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যকে কার্যত অচল করে দিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। আধুনিক সমরাস্ত্র ও নৌবহর মোতায়েন করেও পেন্টাগন এ অসম লড়াইয়ে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের প্রধান শক্তি নিহিত রয়েছে তাদের কম খরচের হাইব্রিড যুদ্ধকৌশলে। মাত্র কয়েক হাজার ডলারের কামিকাজে ড্রোন এবং দূরপাল্লার অ্যান্টি-শিপ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তারা মার্কিন নৌবাহিনীর বহু মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা কাঠামোকে চাপে রেখেছে। দীর্ঘ এক দশকের গৃহযুদ্ধে টিকে থাকা হুতিরা তাদের সমরাস্ত্র ও কমান্ড সেন্টার দুর্গম পাহাড়ি গুহা ও ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে লুকিয়ে রাখায় আকাশপথে চালানো পশ্চিমা হামলা খুব কমই কার্যকর হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের অব্যাহতম হামলার মুখে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সুয়েজ খালের পথ পরিহার করে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে প্রতি চালানে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৪ দিনের সময় এবং লাখ লাখ ডলার বাড়তি জ্বালানি খরচ হচ্ছে, যা সরাসরি বৈশ্বিক পণ্যমূল্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর বড় ধরনের মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করেছে।
কেবলমাত্র আকাশপথে হামলা চালিয়ে স্থলভাগের হুতি নেটওয়ার্ক পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা অসম্ভব বলে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ফলে দৈনিক বিপুল প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অচলাবস্থার ঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক কৌশলে কৌশলগত পিছুটান বা পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামো এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে চলেছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার প্রথম আলো-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।