ভারতের কেন্দ্র সরকারের সমালোচনায় মুখ খুলে নিজেকে 'বুদ্ধিবৃত্তিক নকশাল' হিসেবে দাবি করেছেন প্রবীণ বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। সম্প্রতি পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এফটিআইআই) ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ক্যাম্পাসে পুলিশি হস্তক্ষেপে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ বর্তমান বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে প্রকাশ্যে নিজেকে 'বুদ্ধিবৃত্তিক নকশাল' বা 'দিমাগি নকশাল' বলে দাবি করেছেন।
- সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে পুলিশি প্রবেশের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
- শিক্ষার্থীদের ডাকা কনভেনশনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অধ্যাপকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার পর মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও সাংস্কৃতিক অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজেকে 'বুদ্ধিবৃত্তিক নকশাল' বলে অভিহিত করেছেন প্রবীণ বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। সম্প্রতি পুনের সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তার এই মন্তব্য ভারতীয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তুলেছে। সরকারের সমালোচকদের দমাতে 'নকশাল' বা দেশবিরোধী তকমা দেওয়ার প্রবণতার বিরোধিতা করতেই তিনি এই ব্যঙ্গাত্মক ও সাহসী অবস্থান নেন।
চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি এই আন্দোলন আরও ঘনীভূত হয় যখন শিক্ষার্থীদের ডাকা এক কনভেনশনে যোগ দিতে যাওয়া শিক্ষক ও পরিচালকদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে মাঝরাতে ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশ করে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। শিক্ষার্থীদের ওপর দমনপীড়নের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন।
এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে পুলিশি হস্তক্ষেপের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষক সমাজের একাংশ একে গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের ওপর সরাসরি আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন। উপাচার্যের পদক্ষেপে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের ৫ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করেছে যে ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নাসিরুদ্দিন শাহর এই মন্তব্য এবং এসআরএফটিআইয়ের ছাত্র আন্দোলন ভারতীয় সমাজে বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সাংস্কৃতিক নীতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে এই সংঘাত আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে, যেখানে চলচ্চিত্র ও শিল্প সংস্কৃতির মানুষেরাও সরব হচ্ছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।