ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিতর্কিত লোকসভা সাংসদ নিশিকান্ত দুবে সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল পুনর্দখলের উসকানিমূলক দাবি তুলেছেন। তিনি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সিদ্ধান্তের জন্য ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে দায়ী করে বলেন, তৎকালীন সময়ে ভুলভাবে হস্তান্তরিত হওয়া চট্টগ্রাম বন্দর, সিলেট ও নোয়াখালি পুনরায় ভারতের দখলে আনা উচিত।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এএনআই ও পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল পুনর্দখলের দাবি জানিয়েছেন।
- তিনি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় জওহরলাল নেহরু ভুলভাবে চট্টগ্রাম বন্দর, সিলেট ও নোয়াখালি হস্তান্তর করেছিলেন বলে অভিযোগ তোলেন।
- নিশিকান্ত দুবের দাবি অনুযায়ী, ওই অঞ্চলগুলো অতীতে টিপরা সাম্রাজ্যের অংশ ছিল এবং তৎকালীন মহারাজার মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছিল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) লোকসভা সাংসদ নিশিকান্ত দুবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও দেশভাগের ইতিহাস নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন। সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং পিটিআইকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন যে, শুধুমাত্র পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর পুনর্দখল করাই যথেষ্ট নয়, বরং ১৯৪৭ সালে হস্তান্তরিত হওয়া বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর, সিলেট এবং নোয়াখালিও ভারতের পুনরুদ্ধার করা উচিত। তাঁর এই মন্তব্য দুই দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে নিশিকান্ত দুবে অভিযোগ করেন যে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু অন্যায়ভাবে এবং জোরপূর্বক ওই অঞ্চলগুলো হস্তান্তর করেছিলেন। তাঁর দাবি, এই অঞ্চলগুলো একসময়ে ত্রিপুরার টিপরা সাম্রাজ্যের অংশ ছিল এবং ত্রিপুরার তৎকালীন মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্যর মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই নেহরু এই সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া ১৯৪৬ সালের অন্তর্বর্তী সরকারে মুসলিম লিগকে শামিল করার ফলেই নোয়াখালিতে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নিশিকান্ত দুবের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর হাতছাড়া হওয়ার কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং খনিজ সম্পদসহ অন্যান্য সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। পাশাপাশি, তিনি দাবি করেন যে বাংলাদেশ বর্তমান সময়ে ভারতের কিছু অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে, যা পুনরুদ্ধারের সময় এসে গেছে। তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এ ধরনের মন্তব্য নতুন নয়, তবে একজন দায়িত্বশীল ভারতীয় সংসদ সদস্যের মুখ থেকে এ ধরনের ভূখণ্ডগত দাবির প্রকাশ কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানানো হলেও, এই ধরনের বক্তব্য দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পরিপন্থী বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।