কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির মামলায় পশ্চিমবঙ্গের তথ্যা সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর পাসের নামে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দাবি করেছে, ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন সংস্থা 'অকটেভ রেকর্ডস' থেকে ৩০ লক্ষ টাকা স্থানান্তরিত হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মন্ত্রী থাকাকালীন ইন্দ্রনীল সেন তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ ধ্রুবজ্যোতি বসু ও দীপেশ রায়ের সংস্থাকে ৮৫ কোটিরও বেশি টাকার সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে ইডি জানিয়েছে।
- ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন 'অকটেভ রেকর্ডস' নামক সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ লক্ষ টাকা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছিল।
- ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর পাসের নামে কোটি কোটি টাকা তোলার অভিযোগে কলকাতা পুলিশ ও ইডি যৌথভাবে মানি-ট্রেল ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূল জমানার তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। ২০১৬ সাল থেকে রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য এবং দুইবারের বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির নামে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) চাঞ্চল্যকর কিছু আর্থিক লেনদেনের তথ্য উদ্ধার করেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রী পদে থাকাকালীন ইন্দ্রনীল সেন তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী ধ্রুবজ্যোতি বসু ও দীপেশ রায়ের সংস্থাকে ৮৫ কোটিরও বেশি টাকার টেন্ডার পাইয়ে দেন। এরপর সেই সংস্থাসমূহ থেকে টাকা ঘুরিয়ে ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। তদন্তে আরও প্রকাশ পায় যে, ইন্দ্রনীল সেনের নিজের মালিকানাধীন 'অকটেভ রেকর্ডস' নামক কোম্পানির অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা জমা হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, ওই 'অকটেভ রেকর্ডস'-এর অ্যাকাউন্ট থেকেই ৩০ লক্ষ টাকা স্থানান্তরিত হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে। এই মানি-ট্রেল বা অর্থের উৎস ও গন্তব্য নিয়ে জেরা করা হলে ইন্দ্রনীল সেন দাবি করেছিলেন যে, ওই অর্থ রয়্যালটি বাবদ প্রদান করা হয়েছিল। তবে অর্থ লেনদেনের এই জটিল জাল কীভাবে বিস্তৃত হয়েছিল এবং এর নেপথ্যে আরও কারা জড়িত, তা নিয়ে পুলিশ ও ইডি যৌথভাবে গভীর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এই গ্রেফতারির পর রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো একে বড় ধরণের প্রশাসনিক দুর্নীতি হিসেবে অভিহিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, শাসক দলের ভেতর থেকেও এই বিষয়ে নানামুখী প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। কলকাতা পুলিশ ও ইডির এই যৌথ তদন্ত কতদূর এগোয় এবং এর মাধ্যমে আর কী কী নতুন তথ্য সামনে আসে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।