যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ক্যাবল কেটে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ১৫ হাজার ৫০০ মাইল দীর্ঘ এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সংযোগকারী এই সাবমেরিন ক্যাবলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, আর্থিক লেনদেন এবং ইন্টারনেট যোগাযোগে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাতটি প্রধান যোগাযোগ ক্যাবলকে সংঘাতের নতুন লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ মাইল দীর্ঘ এশিয়া-আফ্রিকা-ইউরোপ-১ (এএই-১) ক্যাবলটি ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে।
- আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে সমুদ্রের তলদেশে বিস্তৃত ১০ লাখ মাইলের বেশি ক্যাবলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ডেটার ৯৯ শতাংশেরও বেশি আদান-প্রদান হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র ভূরাজনৈতিক সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করে হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ইন্টারনেট ক্যাবল কেটে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। দেশটির আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি সমুদ্রের তলদেশের এসব যোগাযোগ লাইনকে সংঘাতের ‘নতুন লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে বর্তমানে সাতটি বড় যোগাযোগ ক্যাবল গেছে, যার মাধ্যমে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের মধ্যে ইন্টারনেট এবং বাণিজ্যিক তথ্যের একটি বিশাল অংশ আদান-প্রদান হয়। এর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ মাইল দীর্ঘ একটি যোগাযোগ ক্যাবলের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে আইআরজিসি, যার বর্ণনা এশিয়া-আফ্রিকা-ইউরোপ-১ (এএই-১) ক্যাবলের সঙ্গে মিলে যায়। ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের সঙ্গে যুক্ত এই ক্যাবলগুলো বৈশ্বিক তথ্যপ্রযুক্তির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিউ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে সমুদ্রের তলদেশে বিস্তৃত ১০ লাখ মাইলের বেশি যোগাযোগ ক্যাবলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ডেটা আদান-প্রদানের ৯৯ শতাংশেরও বেশি সম্পন্ন হয়ে থাকে। লন্ডনের কিংস কলেজের যুদ্ধ ও কৌশলবিষয়ক অধ্যাপক আলেসিও পাতালানো মন্তব্য করেছেন, এই হুমকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। ক্যাবলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন এবং ইন্টারনেট সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে শুধু পশ্চিমা বিশ্ব বা মধ্যপ্রাচ্য নয়, খোদ ইরানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও বড় ধরনের সংকটে পড়বে। তবে সার্বিক ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কায় তেহরান এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো হামলার নির্দেশ দেয়নি। তা সত্ত্বেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক টেলিকম ও অর্থনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।