৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট জ্বালানি চাহিদার ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ থেকে মেটানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের নভেম্বরে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় COP31 সম্মেলনে এই রূপান্তরের আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদার ২৩ শতাংশ বিদ্যুৎ থেকে মেটানো হয়, যা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দ্রুত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মারাত্মক সংকট তৈরি করেছে।
- ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত প্রায় ২৫টি দেশ বিদ্যুতায়ন প্রসারের জন্য নতুন কাঠামোগত নীতি বাস্তবায়ন করেছে এবং ব্রাজিল, চিলি, মরক্কো ও পাকিস্তানের মতো উদীয়মান বাজারগুলো পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ)-র প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৮০ মিলিয়ন কিলোমিটারেরও বেশি বিদ্যুৎ গ্রিড নির্মাণ বা আধুনিকায়ন করতে হবে, যা বর্তমান বৈশ্বিক গ্রিডের মোট দৈর্ঘ্যের সমান।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীর অবরোধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের ধারণাকে বদলে দিচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক দৈনিক তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ ব্যারেল তেল সরবরাহে আকস্মিক বিঘ্ন ঘটে, যা জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতায়নের প্রক্রিয়া তীব্র গতি লাভ করেছে।
আসন্ন COP31 জলবায়ু সম্মেলনে ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদার ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ থেকে মেটানোর ঐতিহাসিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে, যা বর্তমানে মাত্র ২৩ শতাংশে সীমাবদ্ধ। অয়েলপ্রাইস ও টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল পরিবেশগত সুরক্ষার জন্য নয়, বরং জীবাশ্ম জ্বালানির ক্রমবর্ধমান সরবরাহ ঝুঁকির কারণে দেশগুলো বাধ্য হয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। নরস্কেন ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ডেভিড ফ্রাইকম্যান উল্লেখ করেছেন যে, কোনো বিদেশি শক্তি বায়ু বা সৌরশক্তির মতো দেশীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির সরবরাহ বন্ধ বা অবরুদ্ধ করতে পারে না।
উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলো পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরে উন্নত বিশ্বকে পেছনে ফেলে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ব্রাজিল, চিলি, এল সালভাদর, মরক্কো, কেনিয়া, নামিবিয়া এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ইয়েল এনভায়রনমেন্ট ৩৬০-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আফ্রিকা, এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার প্রায় ৬৩ শতাংশ উদীয়মান বাজারে সৌরবিদ্যুতের অনুপাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি হবে, যা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে।
তবে এই উচ্চাভিলাষী বিদ্যুতায়ন ও পরিচ্ছন্ন শক্তির রূপান্তর বড় ধরনের অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ)-র প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বিদ্যুৎ গ্রিডের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের জন্য ৮০ মিলিয়ন কিলোমিটারেরও বেশি নতুন লাইন নির্মাণ করতে হবে। ইতিমধ্যে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে পর্যাপ্ত গ্রিড সংযোগ ও অবকাঠামোর অভাবে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বিলম্বিত বা বাতিল হয়েছে। ফলে, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Vietnam.vn-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।