মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শনিবার ক্লিভল্যান্ডের নির্বাচনি সমাবেশে বর্তমান প্রশাসনকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউস অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে গভীর সংকটে ফেলেছে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে তেহরানের প্রভাব উল্টো বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল বাণিজ্যের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের ব্যালটের মাধ্যমে এই স্বেচ্ছাচারী নীতির জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে ওবামা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইরান সংকট তৈরি ও অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনেন।
- ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ওয়াশিংটনের তথাকথিত বিজয়ের দাবি নাকচ করে ওবামা জানান, এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ ও চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতা আরও বেড়েছে।
- মিশিগানের ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়ে ওবামা প্রতিপক্ষের কট্টর সাম্প্রদায়িক প্রচারণার তীব্র নিন্দা জানান এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা তুলে ধরেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়ে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি সমাবেশে বর্তমান প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, একের পর এক ভুল ও ক্ষতিকর সিদ্ধান্তের কারণে দেশটি আজ গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। কেউ না চাইলেও একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা, নির্দয় আচরণ ও অদক্ষতার বহিঃপ্রকাশ। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমেই এই স্বেচ্ছাচারী নীতির লাগাম টেনে ধরার বড় সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসনের তথাকথিত বিজয়ের দাবি সরাসরি নাকচ করে দেন ওবামা। তিনি ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরে জানান, এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অর্থনৈতিক প্রভাব ও চাপ সৃষ্টির সক্ষমতা বরং বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিবহনের রুট হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার হুমকির মধ্য দিয়ে তেহরান কার্যত আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের ওপর এক ধরনের ভেটো ক্ষমতা অর্জন করেছে। এই পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে সতর্ক করেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।
ক্লিভল্যান্ডের পর মিশিগানের ডেট্রয়েটে গিয়ে সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ও গভর্নর প্রার্থী জসলিন বেনসনের পক্ষে জোরালো প্রচার চালান ওবামা। সেখানে ট্রাম্প শিবিরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। বিশেষ করে আবদুল এল-সায়েদের মুসলিম পরিচয় ও নাম ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ দলের কট্টর ও বিভাজনমূলক প্রচারণার তীব্র নিন্দা জানান ওবামা। নিজের রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, পরিচয় ও ধর্ম নিয়ে এমন সংকীর্ণ আক্রমণ অতীতে তাকেও মোকাবিলা করতে হয়েছিল। আবদুল একজন নিবেদিতপ্রাণ মিশিগানবাসী এবং তিনি সব নাগরিকের সমান অধিকারের পক্ষে কাজ করবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
হোয়াইট হাউস ছাড়ার দীর্ঘ সময় পরও ডেমোক্র্যাট শিবিরের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রচারক হিসেবে ওবামার জনপ্রিয়তা আজও অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে জর্জিয়ায় সিনেটর জন ওসফের পক্ষে একটি বড় সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। বর্তমান প্রশাসনের নীতিমালার বিরুদ্ধে ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ করে ডেমোক্র্যাটদের বিজয় নিশ্চিত করতে এই প্রচারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।