ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হত্যার দায়ে মোহাম্মদ কারামি ও মোহাম্মদ হোসেইনি নামে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও শনিবার সকালে এই দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নিহত দুই বিক্ষোভকারী মোহাম্মদ কারামি এবং মোহাম্মদ হোসেইনিকে ২০২২ সালের নভেম্বরে কারাজ শহরে বাসিজ মিলিশিয়া সদস্য সাইয়েদ রুহুল্লাহ আজামিয়ানকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
- ইরানের বিচার বিভাগীয় সংবাদ সংস্থা 'মিজান' নিশ্চিত করেছে যে, আপিল আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখার পর শনিবার ভোরে এই দণ্ড কার্যকর করা হয়।
- মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং চারজনের দণ্ড ইতিমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী দাবি করেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হত্যার দায়ে মোহাম্মদ কারামি ও মোহাম্মদ হোসেইনি নামে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগীয় ওয়েবসাইট 'মিজান' জানিয়েছে, ২০২২ সালের ৩ নভেম্বর কারাজ শহরে বাসিজ মিলিশিয়া সদস্য সাইয়েদ রুহুল্লাহ আজামিয়ানকে হত্যার দায়ে তাদের এই সাজা দেওয়া হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে শনিবার ভোরে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর পর। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগে শত শত মানুষকে বিচারের মুখোমুখি করে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল এই বিচারিক প্রক্রিয়াকে 'ত্রুটিপূর্ণ' ও 'অস্বচ্ছ' বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ইরান সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের বিচারিক ব্যবস্থাকে দেশের অভ্যন্তরীণ আইন ও নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দাবি করছে।
এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের ওপর নতুন করে কূটনৈতিক চাপের সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের এই কঠোর অবস্থানের নিন্দা জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ বিক্ষোভ দমনে সাময়িক প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।