ইরানের ওপর এখনই কোনো তাৎক্ষণিক সামরিক হামলার পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন রণতরি মোতায়েনকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখছে বলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে এখনই সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার ঘোষণা দেন।
- পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরি ও বোমারু বিমান মোতায়েন থাকায় চরম যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল।
- ইরানের কেশম দ্বীপ সংলগ্ন উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির মুখে ওয়াশিংটন এই সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে এই মুহূর্তে কোনো তাৎক্ষণিক সামরিক হামলার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ ও মার্কিন রণতরি মোতায়েনের ফলে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিলেও, ওয়াশিংটন আপাতত সামরিক সংঘাতের গতিপথ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, তেহরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ অব্যাহত রাখা হলেও সরাসরি আক্রমণ তাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরি এবং কৌশলগত বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয়। বিশেষ করে ইরানের কেশম দ্বীপ সংলগ্ন স্পর্শকাতর পানিসীমায় নজরদারি বৃদ্ধি ও ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি খাদের কিনারায় পৌঁছায়। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এমন যুদ্ধংদেহী মনোভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যপথ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে শুরু করে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, ওই অঞ্চলে মার্কিন সম্পদ ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য, বিনা উসকানিতে যুদ্ধ শুরু করা নয়। অন্যদিকে তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ইরানের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানা হলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটিতে বিপর্যয়কর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এমন কঠোর সামরিক হুমকির মুখে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের অনেকেই নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে না জড়ানোর পক্ষে প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যে সাময়িকভাবে একটি বড় ধরনের সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কা কাটলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সংকট এখনো দূর হয়নি। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াই অব্যাহত থাকায় যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল পদক্ষেপে আবারও বড় সংঘাতের সূচনা হতে পারে। আপাতত তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পিছিয়ে আসা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য স্বস্তিদায়ক বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।