৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন ইরানের সামরিক স্থাপনায় শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা এমওএবি ব্যবহারের সম্ভাব্য পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের এই বোমাটির প্রতিটি তৈরিতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ডলার খরচ হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত নির্দেশ মিললেই এই গোপন সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হতে পারে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ (MOAB)-এর ওজন ৩০ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কেজি এবং প্রতিটির বাজারমূল্য ১ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
- সিবিএস নিউজ ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন যৌথভাবে ইরানের সামরিক স্থাপনায় এই বোমা দিয়ে হামলার সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করে রেখেছে।
- এর আগে ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (IS) সুড়ঙ্গ ও গুহা ধ্বংস করতে প্রথমবারের মতো এমওএবি বোমা ব্যবহার করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইরানে নতুন করে সামরিক আগ্রাসন চালানোর অংশ হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ (এমওএবি) ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেত ও পেন্টাগনের চূড়ান্ত অনুমতি মিললে ইরানের নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই বিধ্বংসী বোমা হামলা চালানো হতে পারে। নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্রের বরাਤੇ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন যৌথভাবে এই ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) ব্যবহারের রূপরেখা প্রস্তুত রাখলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত রাজনৈতিক বা সামরিক নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বা জিবিইউ-৪৩০/বি (GBU-43/B) হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা। এই একটিমাত্র বোমার ওজন ৩০ হাজার পাউন্ডের বেশি, যা প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কেজির সমান। অত্যন্ত শক্তিশালী এই বিস্ফোরণ ঘটানোর সক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিটি বোমার উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর গোপন গুহা ও সুড়ঙ্গ ধ্বংস করতে প্রথমবারের মতো এই ভয়ংকর অস্ত্রটি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিল মার্কিন বিমান বাহিনী।
এ বিষয়ে পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর যেকোনো নির্দেশ বাস্তবায়নে এবং যেকোনো কৌশলগত পরিস্থিতিতে অভিযানের শতভাগ সফলতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিভাগ সবসময় বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রাখে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্পর্শকাতর সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা না হলেও, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে সেজন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব ধরনের সামরিক ও কূটনৈতিক বিকল্প খোলা রেখেছেন বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে সরাসরি বড় কোনো হামলা চালানো হবে না এবং তেহরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। তবে সাম্প্রতিক এই সামরিক প্রস্তুতির খবর দুই দেশের চলমান বৈরিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে নতুন এক জটিল মোড়ে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক যুগান্তর-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।