যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানই প্রথমে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেছে। তিনি তেহরানকে আগামী রোববারের মধ্যে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের অথবা সামরিক হামলার মুখোমুখি হওয়ার চরম আলটিমেটাম দিয়েছেন। এর আগে ট্রাম্পের নির্দেশ পেলে মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ইরানই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেছে এবং তাদের জন্য রোববারের মধ্যে চুক্তি অথবা সামরিক হামলা এই দুটি পথ খোলা রয়েছে।
- মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়ার পর মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে পূর্ণাঙ্গ হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে হামলার তীব্র চাপ সৃষ্টি করলেও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পূর্ণ সায় মেলেনি।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্য কূটক্ষেপে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধের সূচনা করেছে। তেহরানের বর্তমান নীতি ও কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগামী রোববারের মধ্যে ইরানকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, অন্যথায় তাদের বড় ধরনের সামরিক হামলার মুখোমুখি হতে হবে।
এই আলটিমেটামের পেছনে রয়েছে পেন্টাগন ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোপন প্রস্তুতি। ট্রাম্পের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে ধ্বংসাত্মক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে মার্কিন সেন্টকম। আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে কূটনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় সরাসরি হামলার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। তবে ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণ সায় না দিয়ে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ এবং চরম আলটিমেটামের কৌশল বেছে নেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই দ্বমুখী কৌশল—একদিকে সামরিক প্রস্তুতির হুংকার এবং অন্যদিকে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া—বিশ্ববাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তেহরান যদি এই চরম হুমকিতে নমনীয় না হয়, তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।