ইসরায়েলে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে মোসাদপ্রধান ডেভিড বার্নিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলার গোপন পরিকল্পনা করেছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আঞ্চলিক ভূরাজনীতির উত্তেজনার মধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক কৌশল এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কার বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ইসরায়েলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালানোর পরিকল্পনা করেন।
- যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ভূমিকা এবং নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এই সামরিক ছক কষা হয়েছিল বলে জানা যায়।
- মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার এই গোপন পরিকল্পনা ফাঁসের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইসরায়েলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ইরানে একটি বড় ধরনের সামরিক হামলার গোপন পরিকল্পনা করেছিলেন। গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল এবং নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার জন্য এই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপের ছক কষা হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে এই ধরনের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা আঞ্চলিক শান্তিকে চরম হুমকির মুখে ফেলতে পারত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধ এবং সরাসরি উত্তেজনার পারদ ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। এর আগে মার্কিন রাজনীতি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইরানের ওপর সম্ভাব্য বড় হামলার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্য এবং মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ কৌশলগত আলোচনার প্রেক্ষাপটে তেহরানের ওপর সামরিক চাপ সৃষ্টির এই গোপন তৎপরতা চালানো হয়। মোসাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে এই হামলার সম্ভাব্য পরিণতি ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে মিশ্র মত থাকলেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশে পরিকল্পনাটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক ও মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের সময় এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতা নতুন নয়। নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে প্রায়ই উগ্র জাতীয়তাবাদী নীতি এবং বহির্শত্রুর বিরুদ্ধে আগ্রাসী মনোভাবকে ব্যবহার করে থাকে তেল আবিব। তবে ইরানের শক্তিশালী সামরিক প্রস্তুতি এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এই ধরনের যেকোনো হামলা সর্বাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
এই গোপন পরিকল্পনা ফাঁসের ফলে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ববাজারের তেল সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে, যা আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।