ইসরায়েলে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস মিলেছে। এবারের নির্বাচনে পাঁচ লাখ নতুন ভোটার এবং বিদেশ থেকে ফেরা ৭০ হাজার নাগরিক ভোট দিচ্ছেন। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির কারণে এককভাবে কোনো জোটের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা খুবই কম রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং বিরোধী দল ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে, যদিও কোনো জোটের পক্ষেই এককভাবে ৬১টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা কম।
- বিরোধী জোটটি নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে, যার মূল মুখ আইজেনকোট এবং এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও আভিগডর লিবারম্যানের মতো কট্টর ডানপন্থী নেতারাও যুক্ত রয়েছেন।
- নির্বাচনী প্রচারণায় গত ৭ অক্টোবরের হামলায় প্রায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত হওয়ার ঘটনা এবং নিরাপত্তা ব্যর্থতার বিষয়টিকে প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে এনেছেন বিরোধীরা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইসরায়েলে আজ মঙ্গলবার অত্যন্ত কৌতূহল ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাওয়া শুরু করেছেন এবং এটিকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মোড় পরিবর্তনকারী নির্বাচন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে প্রায় পাঁচ লাখ ভোটার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। পাশাপাশি, কেবল ভোট দেওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ হাজার ইসরায়েলি নাগরিক দেশে ফিরে এসেছেন, যা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। শুক্রবার প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটের মধ্যে তীব্র হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্টারি সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার কারণে অতীতে কখনোই কোনো দল একা সরকার গঠন করতে পারেনি এবং এবারও কোনো একক রাজনৈতিক জোটের পক্ষে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এর ফলে নির্বাচনের পর দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও জোট গঠনের জটিল দরকষাকষি শুরু হতে পারে। নবগঠিত ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে গঠিত 'পরিবর্তন জোটে' আদর্শগত পার্থক্য ভুলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার একক লক্ষ্য নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, আভিগডর লিবারম্যান এবং বামপন্থী নেতা ইয়ার গোলান একত্রিত হয়েছেন। অন্যদিকে, ১৯৯৬ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহু উগ্র-ডানপন্থী এবং অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর ওপর ভর করে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়জুড়ে গত ৭ অক্টোবরের হামাসের নজিরবিহীন আক্রমণ ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার বিষয়টি প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ওই হামলায় প্রায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার ঘটনায় বিরোধীরা নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলা, বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিতর্কিত পরিকল্পনা এবং অতি-গোঁড়া ইহুদিদের সামরিক সেবা অব্যাহতি নিয়ে সমাজে গভীর বিভাজন তৈরি হয়েছে। তবে সব সমালোচনা পাশ কাটিয়ে নেতানিয়াহু নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের যুদ্ধগুলোর প্রধান বিজয়ী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তুলে ধরে নিজেকে 'নিরাপত্তার রাজা' হিসেবে জাহির করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইসরায়েলি সম্প্রচার মাধ্যমগুলো স্থানীয় সময় রাত ১০টায় এক্সিট পোল প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ভোটের প্রাথমিক চিত্র তুলে ধরবে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি জেরুজালেমে এবং আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি তেল আবিবে নির্বাচনী ফলাফল পর্যবেক্ষণের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনের ফলাফল কেবল নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাগ্যই নির্ধারণ করবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং চলমান সংঘাতের গতিপ্রকৃতিতেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।