লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ৬০ বছরের গোপনীয়তা কি ভাঙতে যাচ্ছে?

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 07 নভেম্বর 2026, 12:37 দুপুর | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 40 বার পঠিত
ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ৬০ বছরের গোপনীয়তা কি ভাঙতে যাচ্ছে?
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

দীর্ঘ ছয় দশক ধরে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে কৌশলী নীরবতা ও অস্পষ্টতা বজায় রেখেছিল, তা এখন মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ও মার্কিন রাজনৈতিক চাপের মুখে পরিবর্তনের মুখে পড়েছে। ১৯৬০ সালে নেগেভ মরুভূমির ডিমোনা স্থাপনাকে 'বস্ত্র কারখানা' হিসেবে পরিচয় দেওয়ার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই গোপনীয়তা বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • ১৯৬০ সালের শুরুর দিকে নেগেভ মরুভূমির ডিমোনা পারমাণবিক স্থাপনাটিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা 'বস্ত্র কারখানা' হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও মার্কিন গোয়েন্দারা এর আসল উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন করেন।
  • চলতি বছরের জুনে মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কার্যত ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন, যা ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতার নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
  • মার্কিন ইতিহাসবিদ ও কূটনৈতিক নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ারের গোপন বৈঠকের পর থেকেই ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র প্রকাশ্যে ঘোষণা না করার অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা চলে আসছে।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র থাকার বিষয়টি গত ছয় দশক ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে ইরান যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক চাপের কারণে দীর্ঘদিনের এই নীতিতে পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির দীর্ঘদিনের ‘অস্বীকার বা অস্পষ্টতার নীতি’ এখন নতুন বাস্তবতার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কৌশল এবং সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এ বিতর্ককে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিশ্লেষণে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত জুন মাসে কংগ্রেসের এক শুনানিতে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র থাকার বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে নেন।

ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহের সূত্রপাত হয় ১৯৬০ সালে। ওই বছরের শুরুর দিকে কয়েকজন মার্কিন কূটনীতিক ইসরায়েলি হেলিকপ্টারে করে ভ্রমণের সময় নেগেভ মরুভূমিতে একটি নির্মাণাধীন স্থাপনা দেখতে পান। ডেড সি’র পশ্চিমে প্রায় ২০ মাইল দূরের ওই স্থাপনাটি কী, জানতে চাইলে ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আদি কোহেন একে ‘বস্ত্র কারখানা’ বলে পরিচয় দেন। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দারা পরে জানতে পারেন, সেটি আসলে ডিমোনা পারমাণবিক স্থাপনা, যেখান থেকে পরবর্তীতে প্লুটোনিয়াম উৎপাদিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভে সংরক্ষিত নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ারের একান্ত বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। সেই সমঝোতা অনুযায়ী, ইসরায়েল কখনো প্রকাশ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের ঘোষণা বা পরীক্ষা চালাবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রও বিষয়টি চেপে যাবে।

১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং ভানুনুচসহ বিভিন্ন বিজ্ঞানীর তথ্য ফাঁস থেকে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের বিষয়টি উন্মোচিত হতে থাকে। তবে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকেই আশঙ্কা করেছিলেন যে, ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র প্রকাশ্যে এলে সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনে আরব দেশগুলোও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রতিযোগিতায় নামবে। টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হোয়াকিন কাস্ত্রোর মতো বর্তমান আইনপ্রণেতারা এই নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলছেন, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সীমারেখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিষ্কার হওয়া জরুরি।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই দীর্ঘদিনের গোপনীয়তা নীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কিত কৌশলগত অস্পষ্টতা ত্যাগ করে, তবে তা বৈশ্বিক রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরমাণু কূটনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তার সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ