৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজক সংস্থা থেকে গোপনে প্রায় ২১ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় করেছেন বলে মার্কিন ট্যাক্স ফাইলিংয়ে ফাঁস হয়েছে। ২০২৪ সালে ফিফা থেকে প্রাপ্ত ৪২ লাখ ৭৪ হাজার সুইস ফ্রাঁ বেতনের বাইরে এই অর্থ গ্রহণ ফিফার গঠনতন্ত্রের স্বচ্ছতা নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২০২৪ সালে ইনফান্তিনো ফিফা থেকে ৪২ লাখ ৭৪ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ৫৯ কোটি টাকা) বেতন নিলেও, বিশ্বকাপ আয়োজক সংস্থা থেকে অতিরিক্ত ১৭ লাখ ২০ হাজার ডলার (প্রায় ২১ কোটি টাকা) গ্রহণ করেছেন যা বার্ষিক প্রতিবেদনে গোপন রাখা হয়েছে।
- ফিফার গঠনতন্ত্রের ৪৩ নম্বর অনুচ্ছেদের ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, সভাপতি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পারিশ্রমিকের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক, যা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন ফিফার পরিচালনাবিষয়ক কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মিগেল মাদুরো।
- ইনফান্তিনো এর আগে জশুয়া কুশনারের নেতৃত্বাধীন বিনিয়োগকারী দলের কাছে বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন, যা উয়েফা ও এএফসিসহ বিভিন্ন মহাদেশীয় সংস্থার তীব্র আপত্তির মুখে পড়েছিল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মার্কিন ট্যাক্স ফাইলিংয়ের ‘ফর্ম ৯৯০’ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজক সংস্থা থেকে ইনফান্তিনো গোপনে প্রায় ২১ কোটি টাকা অতিরিক্ত গ্রহণ করেছেন। ২০২৪ সালে ফিফা থেকে প্রাপ্ত ৫৯ কোটি টাকা বেতনের বাইরে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ এবং তা বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ না করায় বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিতর্কের মূলে রয়েছে ফিফার গঠনতন্ত্রের ৪৩ নম্বর অনুচ্ছেদের ১৩ নম্বর ধারা, যেখানে সভাপতি ও কাউন্সিলের সদস্যদের পারিশ্রমিক জনসমক্ষে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ফিফা কর্তৃপক্ষ এই অতিরিক্ত আয়ের বিষয়টি বার্ষিক প্রতিবেদনে গোপন রেখেছে। যদিও ফিফার মুখপাত্র ইএসপিএনকে দেওয়া এক বার্তায় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, তারা সব শর্ত মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
ফিফার সাবেক পরিচালনাবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান মিগেল মাদুরো বিষয়টিকে গুরুতর নিয়মের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে জশুয়া কুশনারের সাথে বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রির গোপন পরিকল্পনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে খেলোয়াড় ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ঘটনা ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এসব ঘটনার জেরে উয়েফা ও এএফসির মতো প্রভাবশালী সংস্থাগুলো অতীতে ফিফার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছিল।
আগামী বৃহস্পতিবার জুরিখে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কাউন্সিলের সভায় এই আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং ফিফার প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। এই পরিস্থিতির প্রভাব আগামী দিনে ফিফার বৈশ্বিক ভাবমূর্তি এবং সদস্য দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।