কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো নির্মাণ ও ডেটা সেন্টার খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে ইউরোপীয় বাজারে ৬৭০ কোটি ডলারের করপোরেট বন্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুগল ও ইউটিউবের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। সম্প্রতি ত্রৈমাসিক ফলাফল প্রকাশের পর অ্যালফাবেটের শেয়ারমূল্যে রেকর্ড দরপতন ঘটে এবং মূলধনি ব্যয় ২০ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর ঘোষণার প্রেক্ষাপটে এই বন্ড বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- এআই অবকাঠামো ও ডেটা সেন্টার নির্মাণে রেকর্ড ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় বাজারে ৬৭০ কোটি ডলারের করপোরেট বন্ড ছাড়ছে অ্যালফাবেট।
- চলতি বছরে অ্যালফাবেটের মোট মূলধনি ব্যয় ২০ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের ভবিষ্যৎ লিজ চুক্তি রয়েছে ১ হাজার ৩০৫ কোটি ডলারের।
- সম্প্রতি গুগলের মূল সার্চ আয় প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ায় অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম এক দিনে ১২ শতাংশের বেশি কমে যায়, যা তাদের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ দরপতন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ ও ব্যয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ইউরোপের ঋণবাজার থেকে ৬৭০ কোটি ডলারের বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে গুগল ও ইউটিউবের প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেট। প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর এই বিশাল অঙ্কের মূলধনি ব্যয় এবং তা থেকে প্রত্যাশিত মুনাফা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ার ও বন্ডের বাজারে।
সাম্প্রতিক সময়ে অ্যালফাবেট ও অ্যামাজনের প্রকাশিত ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। গত বৃহস্পতিবার অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি হ্রাস পায়, যা প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট ইতিহাসে এক দিনে সবচেয়ে বড় দরপতন। প্রত্যাশার তুলনায় গুগল সার্চের রাজস্ব বৃদ্ধি কম হওয়া এবং নগদ অর্থের রেকর্ড ব্যয়ের কারণে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বেশি মুছে গেছে।
চলতি বছর অ্যালফাবেটের মোট মূলধনি ব্যয় ২০ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর জন্য প্রায় ১ হাজার ৩০৫ কোটি মার্কিন ডলারের ভবিষ্যৎ লিজ চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা এখনো তাদের মূল ব্যালান্স শিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই বিশাল অংকের খরচের জোগান দিতেই মূলত ইউরোপীয় ঋণবাজারের শরণাপন্ন হয়েছে তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বন্ড বিক্রি থেকে সংগৃহীত এই অর্থ সাধারণ করপোরেট কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিদ্যমান ঋণ পরিশোধের কাজে ব্যবহার করা হবে। এআই খাতে আধিপত্য বজায় রাখতে বিশ্বজুড়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে অবকাঠামো নির্মাণে অর্থ ঢালছে, তাতে ইউরোপের তারল্যসমৃদ্ধ বন্ডবাজার ভবিষ্যতে বড় করপোরেট তহবিল সংগ্রহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।