ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে তিনি এখন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও ‘জয় চুরি’ হয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলছেন। অন্যদিকে, আরব দলগুলোর রাজনৈতিক উত্থান ও ‘কিং মেকার’ হওয়ার সম্ভাবনা ইসরায়েলি রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ইসরায়েলের পার্লামেন্ট বা নেসেটে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
- নির্বাচনী ফলাফল নিজেদের অনুকূলে না যাওয়ায় এবং ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হওয়ায় নেতানিয়াহুর দল ও সমর্থকরা ‘জয় চুরি’ হয়ে যাওয়ার জোরালো অভিযোগ তুলেছে।
- ইসরায়েলি রাজনীতিতে আরব দলগুলোর পক্ষ থেকে ‘কিং মেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নতুন সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সংকট নতুন মোড় নিয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে পুনরায় সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রায় নিঃশেষ হয়ে এসেছে। পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলি রাজনীতিতে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র প্রতিহত করার কৌশলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন নেতানিয়াহু।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফল এবং আসন বিন্যাসের হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ও তার কট্টর ডানপন্থী সহযোগীরা ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছেন। পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদ পার্টি নির্বাচন কমিশন ও বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপি এবং ‘জয় চুরি’ হয়ে যাওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ উত্থাপন করেছে। তবে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক ও নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।
এই রাজনৈতিক নাটকীয়তার মূলে রয়েছে আরব দলগুলোর ঐতিহাসিক রাজনৈতিক উত্থান। ইসরায়েলের মূলধারার রাজনীতিতে আরব ভোটার ও দলগুলো এবার প্রথমবারের মতো ‘কিং মেকার’ বা নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী দলগুলোর সাথে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য জোট গঠন ইসরায়েলি রাজনীতির দীর্ঘদিনের মেরুকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
এই পরিবর্তনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নেতানিয়াহুর যুগের অবসান ঘটলে ফিলিস্তিন নীতি এবং আন্তর্জাতিক মিত্রদের সাথে তেল আবিবের সম্পর্কের গতিপ্রকৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এখন সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করছে বিরোধী জোট কীভাবে আরব দলগুলোকে সাথে নিয়ে সরকার গঠনের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন করে তার ওপর।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।