ইয়েমেনের তাইজ ও লাহিজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার রাতে হুতিদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির পর শনিবার ভোরে আল মাকাতরা দুর্গে বিমান ও কামান হামলা চালানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুর্গটির ওপর একটি হুতি ড্রোন উড়লে সরকারি বাহিনী তা ভূপাতিত করার চেষ্টা করে, যা সংঘাতকে তীব্র করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ইয়েমেনের লাহিজ প্রদেশের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল মাকাতরা দুর্গে সরকারি বাহিনীর ওপর তীব্র হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা।
- তাইজের পূর্বাঞ্চলে চলমান এই লড়াইয়ে ভারী ও মাঝারি অস্ত্রের পাশাপাশি কামান এবং বিমান হামলা ব্যবহার করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে সামরিক সূত্র।
- গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুর্গটির আকাশসীমায় একটি হুতি নজরদারি ড্রোন উড়তে দেখা যায়, যা ভূপাতিত করার চেষ্টা করেন সরকারি সেনাসদস্যরা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইয়েমেনের তাইজ ও লাহিজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী এবং হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যকার সংঘাত নতুন করে চরম আকার ধারণ করেছে। আল জাজিরা আরবিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, তাইজের পূর্বাঞ্চলে চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয়পক্ষই ভারী ও মাঝারি অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি কামান এবং বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইয়েমেনি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সংঘাতের সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়, যখন লাহিজ প্রদেশের কৌশলগত আল মাকাতরা দুর্গের ওপর হুতিদের একটি নজরদারি চালকবিহীন আকাশযান (ড্রোন) উড়তে দেখা যায়। ওই ড্রোনটি তৎক্ষণাৎ ভূপাতিত করার চেষ্টা চালান দুর্গে অবস্থানরত সরকারি বাহিনীর সদস্যরা। এর ঠিক একদিন পর, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই হুতিদের ব্যাপক সামরিক তৎপরতা ও বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যায়। অবশেষে স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ২টার দিকে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা শুরু হয়।
একজন উচ্চপদস্থ সামরিক সূত্র আল জাজিরাকে জানান, হুতিরা দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং আল মাকাতরা দুর্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সরকারি বাহিনীও অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এসব আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। তবে উভয়পক্ষের এই তীব্র লড়াইয়ে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও বিপন্ন হয়ে পড়েছে এবং ওই অঞ্চলে নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। কৌশলগত অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুতি ও সরকারি বাহিনীর এই রক্তক্ষয়ী লড়াই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে লড়াইয়ের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।