ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য নেই, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। টিআইবি উল্লেখ করেছে, দলটির নারী নেতৃত্বের দাবি মূলত 'শুভঙ্করের ফাঁকি' এবং রাজনৈতিক অর্থায়নের প্রক্রিয়া দলগুলোকে ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিজনেস মডেলে পরিণত করছে, যা জুলাই আন্দোলনের প্রত্যাশার পরিপন্থী।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য না থাকায় তা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) লঙ্ঘন করছে বলে জানিয়েছে টিআইবি।
- টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন গবেষণায় রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়ন প্রক্রিয়াকে ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিজনেস মডেল হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
- সংস্থাটির মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল প্রত্যাশা ক্ষমতার অপব্যবহার ও কেন্দ্রীভূত চর্চার অবসান হলেও বাস্তবে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র এবং কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্যের উপস্থিতি নেই, যা বিদ্যমান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর বিধানের সরাসরি লঙ্ঘন। দলটির পক্ষ থেকে নারী নেতৃত্ব নিয়ে যে দাবি করা হয়, তাকে টিআইবি 'শুভঙ্করের ফাঁকি' হিসেবে অভিহিত করেছে।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং তহবিল সংগ্রহের পদ্ধতি দলগুলোকে জনকল্যাণমূলক সংগঠনের পরিবর্তে ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিজনেস মডেলে পরিণত করেছে। এর ফলে দলের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদে পরিবারতন্ত্র এবং গুটিকয়েক ব্যক্তির একক আধিপত্য বজায় থাকছে, যা তৃণমূল স্তরের নেতাকর্মীদের মতামতকে কোণঠাসা করে ফেলছে।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে যে মৌলিক সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, টিআইবির মূল্যায়নে তা এখনও বাস্তবে রূপ নেয়নি। বিশেষ করে ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত চর্চা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বৈরাচারী মনোভাবের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। জামায়াতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক বিবৃতিকে বিভ্রান্তিমূলক বলে আখ্যা দিয়ে টিআইবি বলেছে, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না করে কেবল কথার কথা বললে চলবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টিআইবির এই কঠোর পর্যবেক্ষণ দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সংস্কারে এবং নির্বাচন কমিশনের আরপিও বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি বাড়াতে বাধ্য করবে। দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা না গেলে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ দীর্ঘায়িত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মত প্রকাশ করেছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।