জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা দিবসে বৈশ্বিক রাজনীতিতে সংস্থাটির সংস্কারের দাবি জোরালো হয়েছে। পরাশক্তির ভিটো ক্ষমতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে নিরাপত্তা পরিষদ বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো বৈষম্যহীন ও কার্যকর বহুপাক্ষিক কূটনীতি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ সনদের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন এবং নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ সম্প্রসারণের জোর দাবি জানিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জাতিসংঘ দিবসে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে তীব্র সমালোচনা ও সংস্কারের দাবি উঠেছে।
- বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষ থেকে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সমতা ও ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
- বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমান ভূরাজনীতির অমিল থাকায় বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় জাতিসংঘ পঙ্গু হয়ে পড়ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আজ জাতিসংঘ দিবস ও উন্নয়ন তথ্য দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক এই সংস্থার কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্বশান্তি রক্ষা, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পরাশক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে নিরাপত্তা পরিষদের স্থবিরতা বিশ্ববাসীর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক সংকটে যেমন মধ্যপ্রাচ্য কিংবা ইউক্রেন সংঘাতে নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, তার মূল কারণ এর কাঠামোগত ত্রুটি। ভিটো ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে বিশ্বশান্তি রক্ষা হুমকির মুখে পড়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জয়ী ৫টি দেশের হাতে সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত থাকায় লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তিগুলো কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক নীতিমালায় একধরনের দ্বিমুখী নীতি ও ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে এবং বৈশ্বিক শান্তি ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এবং অন্যান্য সমমনা রাষ্ট্রের দাবির মুখে এখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংস্থাটিকে কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনার ফোরাম হিসেবে টিকিয়ে না রেখে এর আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
জাতিসংঘ যদি তার সনদের মৌলিক নীতি—সার্বভৌম সমতা এবং মানবকল্যাণ—পুনরুদ্ধার করতে না পারে, তবে বিংশ শতাব্দীর এই সংস্থাটি একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়তে পারে। বিশ্ববাসীর টিকে থাকার স্বার্থেই একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক এবং শক্তিশালী জাতিসংঘ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।