৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বিরোধ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর আরোপিত বেশ কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার দুই দিন আগেই স্থগিত করেছেন। শুক্রবার রাতে জারি করা নির্বাহী আদেশে তিনি একে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্ক অবনতির পাশাপাশি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার রাতে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে রাশিয়ার ওপর কংগ্রেসের পাস করা বেশ কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার ঠিক দুই দিন আগে স্থগিত করেন।
- ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে বলেন যে, এটি রাশিয়াকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে।
- ভার্জিনিয়ার কংগ্রেসম্যান ডন বেয়ারসহ ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে মস্কোর কাছে আত্মসমর্পণ এবং ইউক্রেনীয় অংশীদারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বিরোধ ও উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়ার ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞাগুলো স্থগিত করার আকস্মিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া এবং সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের স্বাক্ষরে আইন হিসেবে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বাস্তবায়নের মাত্র দুই দিন আগে শুক্রবার রাতে একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে স্থগিত করা হয়। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে আটকে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির বিতর্কিত চুক্তির পর থেকে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটে, যা এই নতুন নিষেধাজ্ঞার বরখেলাপের মধ্য দিয়ে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
চলতি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার জ্বালানি অবকাঠামো হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে মার্কিন বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন আইনে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা—চীন ও ভারত—থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া পুতিনসহ রাশিয়ার শীর্ষ ব্যক্তি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মস্কোর ‘ছায়া নৌবহর’-এর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত ছিল। রুশ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ ট্রাম্পের এই ছাড়কে ঐতিহাসিক মুহূর্ত আখ্যা দিয়ে বলেন যে, পূর্বের নিষেধাজ্ঞাগুলো মার্কিন বাজার ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারত।
তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন যে, রাশিয়ার ১৫টি জ্বালানি স্থাপনায় রুশ বাহিনীর সাম্প্রতিক রাতভর হামলার ফলে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও শীতের মধ্যে ব্ল্যাকআউট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, অথচ যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে রাশিয়াকে ছাড় দিচ্ছে। মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারাও ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন যে এই সিদ্ধান্ত রাশিয়ার আগ্রাসী যুদ্ধকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে এবং কিয়েভের নিরাপত্তা স্বার্থকে চরমভাবে বিপন্ন করছে।
এই ভূ-রাজনৈতিক সংকট শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্ককেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং যুদ্ধক্ষেত্রের সামরিক সহযোগিতাকেও প্রভাবিত করেছে। সম্প্রতি ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে স্টারলিঙ্ক ইন্টারনেট সংযোগ ও ড্রোন চালনার গতি সীমিত হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মস্কোর পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আসন্ন শীত মৌসুমে ইউক্রেনের জ্বালানি খাত রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।