ভারতের শেয়ার বাজারে প্রবেশ করে ইতিহাস গড়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জিও প্ল্যাটফর্মস। শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তিতে ২১.৪ শতাংশ বাম্পার রিটার্ন দিয়ে এলআইসি, হুন্ডাই ও পেটিএমকে পেছনে ফেলে দেশের অন্যতম বৃহত্তম পাবলিক ইস্যু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে জিয়ো। লিস্টিংয়ের দিনেই ২১ শতাংশ প্রিমিয়ামে নথিভুক্ত হয়ে এটি ভারতের দ্বিতীয় মূল্যবান সংস্থায় পরিণত হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শেয়ার বাজারে অভিষেকের দিনেই বিনিয়োগকারীদের ২১.৪ শতাংশ পর্যন্ত বাম্পার রিটার্ন উপহার দিয়েছে জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও।
- আইপিও সাবস্ক্রিপশনের দ্বিতীয় দিনেই ৫.৫৭ গুণ আবেদন জমা পড়েছিল, যা ভারতের পুঁজিবাজারে এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
- টাটা গ্রুপকে পেছনে ফেলে এবং এলআইসি, হুন্ডাই ও পেটিএম-এর রেকর্ড ভেঙে এটি দেশের ৫টি বৃহত্তম পাবলিক ইস্যুর মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচনা করে শেয়ার বাজারে আত্মপ্রকাশ করেছে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিটাল শাখা জিও প্ল্যাটফর্মস। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতেই এই আইপিও বিনিয়োগকারীদের ২১.৪ শতাংশের বাম্পার রিটার্ন উপহার দেয়, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যান্য মেগা আইপিওকে স্পষ্টভাবে ছাড়িয়ে গেছে। লিস্টিংয়ের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সংস্থার কর্ণধার ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
এর আগে আইপিও সাবস্ক্রিপশনের দ্বিতীয় দিনেই এই মেগা পাবলিক ইস্যুর জন্য ৫.৫৭ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়েছিল, যা বাজারে এর আকাশচুম্বী চাহিদার প্রমাণ দেয়। এলআইসি, হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া কিংবা পেটিএমের মতো বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অতীতের লিস্টিং রেকর্ড ভেঙে জিয়ো ভারতের শীর্ষ ৫টি পাবলিক ইস্যুর মধ্যে হিরো নম্বর ওয়ান স্থানটি দখল করে নিয়েছে। টাটা গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানির বাজার দখলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এটি রিলায়েন্স সাম্রাজ্যের শক্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
লিস্টিংয়ের এই আনন্দঘন মঞ্চে রিলায়েন্স পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য অনন্ত আম্বানির আবেগঘন উপস্থিতি সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জিও প্ল্যাটফর্মসের এই শক্তিশালী আত্মপ্রকাশ কেবল টেলিকম খাত নয়, বরং পুরো ভারতীয় পুঁজিবাজারের গতিপ্রকৃতিতে এক সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাজারে পা রেখেই ২১ শতাংশ প্রিমিয়ামে নথিভুক্ত হয়ে এটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বাধিক মূল্যবান সংস্থায় পরিণত হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক লিস্টিংয়ের ফলে ভারতের ডিজিটাল ও প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আরও তরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রিলায়েন্সের এই সুদূরপ্রসারী কৌশলগত পদক্ষেপ দেশের শেয়ার বাজারে খুচরা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা আগামী দিনে দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে এক নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।