দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কল্যাণের কথা চিন্তা করে সরকার জ্বালানির দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, চলতি বছরে জ্বালানি খাতে নির্ধারিত ৪৮ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির অর্ধেক মাত্র আড়াই মাসে ব্যয় হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশেও তা কমানো হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চলতি অর্থবছরে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির জন্য মোট ৪৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই তার অর্ধেক অর্থ ভর্তুকি বাবদ প্রদান করতে হয়েছে।
- প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও তা সমন্বয় করা হবে।
- উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বাংলাদেশ পুলিশ বিগত স্বৈরাচারী সরকারের মতো নির্বিচারে কাজ করবে না, তবে আইনানুগ ও অনুপাতে বলপ্রয়োগের আইনি অধিকার তাদের রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও খাতের বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতেই সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋণ করে কিংবা অতিরিক্ত টাকা ছাপিয়ে ভর্তুকির জোগান দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা অর্থনীতিকে আরও বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারত।
বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের চরম অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, চলতি বছরে এই খাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে তার অর্ধেক অর্থ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। অতীতে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনাকারী হিসেবে নিজের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৎকালীন সরকারের সঙ্গে বর্তমানের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের কোনো তুলনাই চলে না। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য হ্রাস পেলে দেশের বাজারেও তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, পুলিশকে আইনগত কাঠামোর মধ্যে থেকে এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে অনুপাতিক হারে বলপ্রয়োগের অধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে বিগত সরকারের মতো পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোথাও কোথাও ডিসপ্রপোশনেট বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের যে অভিযোগ উঠছে, তা দীর্ঘদিনের পুরোনো কর্মসংস্কৃতির প্রভাব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এর পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। বর্তমান সরকার জনগণের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চায় না বলেই দীর্ঘ আলোচনা ও বাস্তবতা বিচার করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে টেকসই করতেই এই ধরনের কঠিন কিন্তু অবশ্যম্ভাবী সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।