আগামীকাল রোববার ৮ নভেম্বর দেশজুড়ে উদযাপিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্যামা পূজা বা কালী পূজা। হিন্দু পুরাণ মতে অশুভ শক্তি বিনাশে দেবী কালীর এই আরাধনা মধ্যরাত্রে তান্ত্রিক ও ব্রাহ্মণ্য মতে অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মন্দির, মণ্ডপ ও শ্মশানে দীপাবলী প্রজ্জ্বলন এবং বিশেষ পূজার ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আগামীকাল রোববার ৮ নভেম্বর দেশব্যাপী হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব শ্যামা পূজা বা কালী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
- রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ এবং সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন মণ্ডপে মধ্যরাতে তান্ত্রিক ও ব্রাহ্মণ্য মতে পূজা অর্চণা করা হবে।
- কালী পূজার এই পবিত্র তিথিতে ভক্তরা বাড়িতে ও শ্মশানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে দীপাবলী উৎসবের মাধ্যমে স্বর্গীয় পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণ করবেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
হিন্দু পুরাণ মতে জগতের সকল অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয় অর্জনের লক্ষে আগামীকাল রোববার ৮ নভেম্বর পালিত হতে যাচ্ছে শ্যামা পূজা বা কালী পূজা। দেবী দুর্গারই একটি শক্তি হিসেবে পরিচিত কালী দেবী ভক্তদের কাছে শ্যামা, আদ্য মা, তারা মা, চামুন্ডি, ভদ্রকালী ও মহামায়া নামে পূজিত হন। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী দেবী কালী শ্মশানের অধিষ্ঠাত্রী হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শ্মশানে মহাধুমধামের মাধ্যমে শ্মশানকালী পূজা উদযাপিত হয়।
দুর্গাপূজার মতো কালীপূজাতেও গৃহে বা মণ্ডপে মৃন্ময়ী প্রতিমা নির্মাণ কিংবা মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত প্রস্তরময়ী ও ধাতুপ্রতিমায় দেবীর আরাধনা করা হয়। তান্ত্রিক পদ্ধতিতে মধ্যরাত্রে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে এই পূজা অনুষ্ঠিত হলেও গৃহস্থ বাড়িতে সাধারণত অতান্ত্রিক ব্রাহ্মণ্যমতে আদ্যাশক্তি কালীর রূপের পূজা সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। কালী পূজার এই বিশেষ দিনে হিন্দু সম্প্রদায় সন্ধ্যাবেলা নিজেদের বাড়িতে এবং শ্মশানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে স্বর্গীয় পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণ করেন, যা দীপাবলী নামে পরিচিত।
রাজধানী ঢাকায় শ্যামা পূজা উদযাপনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, সবুজবাগের শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, পুরান ঢাকার রাধাগোবিন্দ জিঁও ঠাকুর মন্দির, পোস্তগোলা মহাশ্মশান, তাঁতী বাজার, শাখারী বাজার ও বাংলাবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের ভিড় জমানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও প্রতিটি মন্দিরে নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন পূজা কমিটি ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দীপাবলীর আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে দেশের প্রতিটি প্রান্ত, যা সমাজে শান্তি, আলো ও কল্যাণ বয়ে আনবে বলে বিশ্বাস করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।