পশ্চিম বর্ধমানের প্রাচীন দুর্লভা কালী মন্দিরে ২০২৬ সালের কালীপূজায় শতবর্ষের ঐতিহ্য অনুযায়ী দেবী প্রতিভাকে কোমরে ভারী শিকল বেঁধে আরাধনা করা হচ্ছে। প্রচলিত লোকবিশ্বাস ও অলৌকিক কাহিনি জড়িয়ে থাকা এই মন্দিরে অমাবস্যার রাতে বিশেষ নিয়মে পূজা হয়, যেখানে শেয়াল এসে দেবীর ভোগ গ্রহণ করে বলে ভক্তদের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পশ্চিম বর্ধমানের ঐতিহাসিক দুর্লভা কালী মন্দিরে শতবর্ষের ঐতিহ্য মেনে দেবীকে কোমরে ভারী শিকল বেঁধে পূজা করা হয়।
- স্থানীয় লোকবিশ্বাস ও প্রচলিত অলৌকিক কাহিনি অনুযায়ী, অমাবস্যার রাতে এই মন্দিরে প্রতি বছর শেয়াল এসে দেবীর নিবেদিত ভোগ গ্রহণ করে।
- তান্ত্রিক সাধনা ও অলৌকিক ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই মন্দিরটি বর্ধমান অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও রহস্যময়পীঠ হিসেবে পরিচিত।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিম বর্ধমানের প্রাচীন ও রহস্যঘেরা ‘দুর্লভা কালী’ মন্দিরে ২০২৬ সালের কালীপূজাকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। শত শত বছর ধরে চলে আসা এই মন্দিরের পূজার আচার-অনুষ্ঠান সাধারণ মন্দিরের তুলনায় বেশ আলাদা ও রোমহর্ষক। বিশেষ করে দেবী প্রতিমাকে যেভাবে আরাধনা করা হয়, তা এই মন্দিরটিকে অনন্য করে তুলেছে।
প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী, এই মন্দিরে দেবী প্রতিমাকে কোমরে ভারী শিকল বেঁধে পূজা করা হয়। স্থানীয় ভক্তদের বিশ্বাস, দেবীর রূপ ও শক্তি এতই প্রবল যে জনশ্রুতি রয়েছে, দেবী যেন মন্দির ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চান। এই অলৌকিক বিশ্বাস থেকেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার এই প্রাচীন নিয়ম অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছে স্থানীয় সেবায়েত ও ভক্তরা।
মন্দিরটির সঙ্গে জড়িত রয়েছে বহু তান্ত্রিক সাধক ও অলৌকিক ঘটনার ইতিহাস। অমাবস্যার অন্ধকার রাতে জঙ্গলে ঘেরা এই মন্দিরের পরিবেশ এক রহস্যময় রূপ নেয়। প্রবীণদের বয়ান অনুযায়ী, আজও নাকি গভীর রাতে মন্দিরে শেয়াল এসে দেবীর সামনে রাখা ভোগ খেয়ে যায়, যা এখানকার দীর্ঘদিনের এক অলৌকিক ও অপরিবর্তিত রীতি হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলার শাক্ত সাধনা ও লৌকিক সংস্কৃতির এক দুর্লভ নিদর্শন হিসেবে এই মন্দিরটি আজও গবেষক ও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। আধুনিকতার ছোঁয়া সত্ত্বেও প্রাচীন রীতিনীতির এই ধারাবাহিকতা বর্ধমানের ইতিহাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে টিকে রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।