পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় ৪০০ বছরের প্রাচীন ‘ক্ষেপীমা’ কালীপুজোয় মাটির কোনো মূর্তি ব্যবহার করা হয় না। দামোদরের গর্ভ থেকে উঠে আসা প্রাচীন এক জীবন্ত নিমগাছকেই সাক্ষাৎ মা কালী হিসেবে পুজো করা হয়। প্রায় ৫ কেজি সোনা ও রূপার অলঙ্কারে সাজানো এই দেবীকে ঘিরে রয়েছে গভীর ভক্তি ও ঐতিহ্য, যেখানে গভীর রাতে আস্ত নিমগাছে বেনারসী পরিয়ে পুজো দেওয়া হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার ৪০০ বছরের প্রাচীন ‘ক্ষেপীমা’ কালীপুজোয় কোনো মাটির প্রতিমা নেই, বরং দামোদরের গর্ভ থেকে উঠে আসা জীবন্ত নিমগাছকে দেবী রূপে পূজা করা হয়।
- দেবীকে সাজাতে প্রায় ৫ কেজি সোনা ও রূপার অলংকার ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে সোনার মুকুট, জিভ, হার ও বালা।
- এই ব্যতিক্রমী পুজোয় গভীর রাতে আস্ত নিমগাছের গায়ে বেনারসী শাড়ি পরানো হয় এবং প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ায় উদযাপিত হয়ে আসছে বাংলার অন্যতম এক প্রাচীন ও রহস্যময় কালীপুজো, যা ‘ক্ষেপীমা’র পুজো নামে সর্বজনবিদিত। প্রায় ৪০০ বছরের এই ঐতিহ্যবাহী পুজো অন্যান্য সাধারণ কালীপুজোর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ এখানে কোনো মৃত্তিকা নির্মিত প্রতিমা স্থাপন করা হয় না। জনশ্রুতি ও ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, দামোদরের গর্ভ থেকে অলৌকিকভাবে উঠে আসা একটি প্রাচীন নিমগাছকেই সাক্ষাৎ মা কালী হিসেবে গণ্য করে পূজা করা হয়। গাছের শিরা-প্রশিরা ও ধমনীর মতো অংশগুলো স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকায় ভক্তদের কাছে এর ধর্মীয় মাহাত্ম্য ও অলৌকিকতা অত্যন্ত গভীর।
এই পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো দেবীর রাজকীয় সাজসজ্জা। সাক্ষাৎ নিমগাছরূপী মহাকালীকে প্রায় ৫ কেজি ওজনের সোনা ও রূপার অলঙ্কারে সাজানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে খাঁটি সোনার মুকুট, সুদৃশ্য জিভ, হার, বালা এবং নানা মূল্যবান রত্নখচিত গহনা। প্রতিবছর কার্তিক অমাবস্যার এই বিশেষ তিথিতে গভীর রাতে প্রাচীন এই নিমগাছে আস্ত বেনারসী শাড়ি পরানোর এক অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় আয়োজন করা হয়, যা দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী কাটোয়ায় ভিড় জমান।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও মন্দির কমিটির সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শত শত বছর ধরে এই নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। প্রচলিত রয়েছে যে, এই ‘ক্ষেপীমা’ অত্যন্ত জাগ্রত এবং ভক্তের মনষ্কামনা দ্রুত পূর্ণ করেন। দামোদর নদের ভাঙন ও প্রাকৃতিক নানা পরিবর্তন সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকা এই নিমগাছটিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে আরও সুদৃঢ় হয়েছে। পুজো উপলক্ষে পুরো কাটোয়া অঞ্চল জুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বাংলার শাক্ত সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে কাটোয়ার এই সোনা ও রূপায় ভূষিত ‘ক্ষেপীমা’র পুজো শুধু ধর্মীয় পর্যটনকেই সমৃদ্ধ করছে না, বরং বাংলার লোকায়ত বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের এক অমূল্য দলিল হয়ে উঠেছে। আধুনিকতার ছোঁয়া সত্ত্বেও প্রাচীন রীতিনীতি ও গোপনীয়তা বজায় রেখে যেভাবে এই পুজো সম্পন্ন হয়, তা বাংলার সনাতন সংস্কৃতির দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্যকেই বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।