রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের জনপ্রিয় কাচকি ও চাপিলা মাছে আশঙ্কাজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। হ্রদে নিক্ষিপ্ত প্লাস্টিক বর্জ্য ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট দূষণের ফলে মাছের পরিপাকতন্ত্রে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে। এই দূষণ খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে সরাসরি মানবদেহে প্রবেশ করে ক্যানসারসহ দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গবেষণায় কাপ্তাই হ্রদের কাচকি ও চাপিলা মাছের নমুনায় প্রতি গ্রামে গড়ে ০.৫ থেকে ২.০ মিলিমিটার আকারের মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে, যা মূলত পলিথিন ও নাইলন তন্তু।
- হ্রদে নিক্ষিপ্ত প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন ব্যাগ এবং পরিত্যক্ত মাছ ধরার জালের অবশিষ্টাংশ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ও ঢেউয়ের প্রভাবে ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হচ্ছে।
- পরীক্ষিত মাছের নমুনার প্রায় ৭০ শতাংশের পরিপাকতন্ত্রে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতি মিলেছে, যা মাছের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস ও মানবদেহে হরমোনজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের সুস্বাদু কাচকি ও চাপিলা মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে, যা স্থানীয় মৎস্য সম্পদ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, হ্রদের পানিতে মিশে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য মাছের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করার ফলে এই দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে। কাচকি ও চাপিলা মাছ সাধারণত আস্ত খাওয়া হয় বলে এই প্লাস্টিক সরাসরি মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কাপ্তাই হ্রদে পর্যটকদের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বোতল, চিপসের প্যাকেট এবং স্থানীয়দের ব্যবহৃত গৃহস্থালি বর্জ্য এই দূষণের প্রধান উৎস। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ও পানির ঘর্ষণে এসব প্লাস্টিক ভেঙে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট কণায় পরিণত হয়। কাচকি ও চাপিলা মাছ মূলত প্লাঙ্কটনভোজী হওয়ায় তারা ভুলবশত এসব ক্ষুদ্র কণা গিলে ফেলছে, যা তাদের পাকস্থলীতে জমা হচ্ছে। গবেষক দল হ্রদের ৫টি ভিন্ন পয়েন্ট থেকে সংগৃহীত মাছের নমুনা পরীক্ষা করে এই ফলাফল পেয়েছেন।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাগুলো মাছের শরীরে বিষক্রিয়া তৈরি করে এবং তাদের প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যেহেতু এই ছোট মাছগুলো খাদ্যশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই এর প্রভাব পুরো বাস্তুসংস্থানে পড়ছে। মানুষের পরিপাকতন্ত্রে এসব কণা প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ, কোষের ক্ষতি এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গবেষকরা এই পরিস্থিতিকে পরিবেশগত জরুরি অবস্থা হিসেবে দেখছেন।
কাপ্তাই হ্রদের এই পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে অবিলম্বে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কঠোর করার তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। হ্রদ এলাকায় পর্যটকদের প্লাস্টিক ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে দেশের অন্যতম প্রধান এই মৎস্য ভাণ্ডার হুমকির মুখে পড়বে। টেকসই মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে হ্রদের পানি ও তলদেশের দূষণমুক্ত রাখা এবং নিয়মিত মনিটরিং এখন সময়ের দাবি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।