৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"শেষ অর্থবর্ষে ১৯ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়া এয়ার ইন্ডিয়া আর্থিক সংকট কাটাতে খরচ হ্রাসের কঠোর উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন সিইও টিওলডে গেবরেমারিয়ামের নির্দেশে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি, খরচ কমানোর কার্যকর আইডিয়া প্রদানে কর্মীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং সেরা পরামর্শদাতাকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- এয়ার ইন্ডিয়ার শেষ অর্থবর্ষে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং গত মার্চের পর থেকে লোকসানের বহর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- সংস্থার নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের সাবেক সফল কর্তা টিওলডে গেবরেমারিয়াম।
- খরচ কমানোর কার্যকরী উপায় বের করতে একটি বিশেষ ডেডিকেটেড টিম গঠন করা হয়েছে এবং সেরা আইডিয়া দাতাকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিপুল আর্থিক লোকসানের ধাক্কা সামলাতে এবং পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। সমাপ্ত শেষ অর্থবর্ষে সংস্থাটির মোট ক্ষতির পরিমাণ ছুঁয়েছে ১৯ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড অংক। শুধু তাই নয়, গত মার্চের পর থেকেও এই লোকসানের বহর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, যা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক আর্থিক ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে এয়ার ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া ইথিওপিয়ার অভিজ্ঞ বিমান বিশেষজ্ঞ টিওলডে গেবরেমারিয়াম কঠোর কিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন।
এর আগে দীর্ঘদিন ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের শীর্ষ কর্তা হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে সেই সংস্থাকে ঘুরে দাঁড় করানোর অনন্য কৃতিত্ব রয়েছে গেবরেমারিয়ামের। তাঁর নেতৃত্বেই এয়ার ইন্ডিয়ার অন্দরে খরচ ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি কর্মীদের কাছে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ ই-মেইল বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সংস্থার ব্যয়ের খাতগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে একটি ডেডিকেটেড টিম বা বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। যদিও রয়টার্সের রিপোর্টে এই দল গঠনে কোনো বাহ্যিক পেশাদার সংস্থার সাহায্য নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
ব্যয় সংকোচনের এই প্রক্রিয়ায় কেবল শীর্ষ কর্তারা নন, সাধারণ কর্মীদেরও সরাসরি সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ই-মেইলে কর্মীদের কাছে সুনির্দিষ্ট আইডিয়া বা পরামর্শ চাওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে পরিচালন খরচ কমানো সম্ভব। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁদের দেওয়া পরামর্শ বা আইডিয়া বাস্তবসম্মত ও কার্যকরী প্রমাণিত হবে, তাঁদের উপযুক্ত পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে মালিকানা বোধ তৈরির পাশাপাশি সংকট উত্তরণে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার এই আগ্রাসী ব্যয় সংকোচন নীতি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বাজারে তাদের টিকে থাকার লড়াইকে তীব্রতর করেছে। দীর্ঘমেয়াদে এই কৌশল সফল হলে যেমন ক্রমবর্ধমান লোকসানের গতি রোধ করা সম্ভব হবে, তেমনি ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সংস্থাটি নতুন গতি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Ei Samay-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।