শুভ বিজয়া দশমীতে কক্সবাজার সৈকতে লাখো মানুষের ঢল নামে। যথাযথ ধর্মীয় মর্যদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে মাত্র ৪৫ মিনিটে ৩৮০টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের প্রতিমা সাগরে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্তি ঘটে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় শারদীয় দুর্গোৎসবের।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কক্সবাজারের সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে মাত্র ৪৫ মিনিটের ব্যবধানে মোট ৩৮০টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
- বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জনে সৈকত এলাকায় দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।
- জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিন স্তরের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সার্বিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
উৎসবমুখর পরিবেশ ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটেছে। বিজয়া দশমীর শেষ বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে নামে লাখো মানুষের ঢল। এই মিলনমেলায় হাজারো ভক্ত-দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মাত্র ৪৫ মিনিটের সংক্ষিপ্ত সময়ে মোট ৩৮০টি প্রতিমা সাগরে বিসর্জন দেওয়া হয়।
প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই কক্সবাজারের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ থেকে ট্রাকে ও ভ্যানে করে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা সৈকত এলাকায় সমবেত হতে শুরু করেন। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি ও 'শুভ বিজয়া' ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সৈকত প্রাঙ্গণ। ধর্মীয় বিধান মেনে সিঁদুর খেলা ও মায়ের চরণে শেষ অঞ্জলি অর্পণের পর বেদনাবিধুর হৃদয়ে উমাকে বিদায় জানান ভক্তরা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং আনসারের সমন্বয়ে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছিল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানান, শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপনের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা ছিল প্রশংসনীয়।
শারদীয় দুর্গোৎসবের এই সমাপনী দিনে কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করে প্রতিবারের মতো এবারও অত্যন্ত আনন্দঘন ও নিরাপদ পরিবেশে সমাপ্ত হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই মহোৎসব।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।