কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় রিসোর্টের দুই মালিকের মধ্যে একজনের নাম বাদ পড়ায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ১৭ অক্টোবর উখিয়া থানায় দায়ের করা মামলায় তানভীর সুলতান মিয়ার নাম থাকলেও অপর মালিক নিয়াজ মোর্শেদের নাম নেই। পুলিশ বলছে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রিসোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তানভীর সুলতান মিয়া ও নিয়াজ মোর্শেদকে যৌথ মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, উখিয়া থানায় দায়ের করা মামলায় শুধুমাত্র তানভীর সুলতান মিয়াকে আসামি করা হয়েছে।
- মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৪এ (অবহেলাজনিত মৃত্যু), ৩৩৮ (গুরুতর আঘাত) ও ৩৪ (অভিন্ন অভিপ্রায়) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, যেখানে চারজন নামীয় ও ১৯ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
- নিহত ১০ জনের মরদেহ শনাক্তকরণে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ছে এবং অগ্নিকাণ্ডে রিসোর্টের ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুড়ে যাওয়ায় তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলা নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ১৭ অক্টোবর উখিয়া থানায় উপপরিদর্শক আশিষ সূত্রধর বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় রিসোর্টের মালিক তানভীর সুলতান মিয়া, ব্যবস্থাপক সাঈদ আহাম্মেদ, মোহাম্মদ সাঈদ এবং জাহিদ হোসেন সুমনসহ মোট ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে রিসোর্টের ওয়েবসাইটে মালিক হিসেবে নিয়াজ মোর্শেদের নাম ও ছবি থাকলেও এজাহারে তার নাম না থাকায় মামলার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, রিসোর্টটির ওয়েবসাইটের ‘অ্যাবাউট’ অংশে তানভীর সুলতান মিয়া ও নিয়াজ মোর্শেদকে যৌথ মালিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও সাবেক কর্মীদের দাবি, গ্রেফতার হওয়া ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন সুমনের সাথে নিয়াজ মোর্শেদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টের প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুড়ে যাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ট্রেড লাইসেন্স ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাগজ সংগ্রহের চেষ্টা চালাতে হচ্ছে।
আইনজীবী সেজান এহসান এই মামলার ধারা ও আসামি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দণ্ডবিধির ৩০৪এ ধারায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ আনা হলেও, রিসোর্ট নির্মাণে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছিল কি না, তা তদন্তের মূল কেন্দ্রে থাকা উচিত। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং নতুন কোনো তথ্য বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে নিয়াজ মোর্শেদসহ অন্যদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বর্তমানে গ্রেফতারকৃত ব্যবস্থাপক সুমনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ড কক্সবাজারের পর্যটন খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। নিহতদের মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া পরিচয় শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রকৃত দায় নির্ধারণ এবং মালিকপক্ষের গাফিলতি খতিয়ে দেখার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। মামলার তদন্তের গতি এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এখন স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।