কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সৈকতের সংরক্ষিত 'নো ডেভেলপমেন্ট জোন' এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত আনুমানিক ছয় কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে পাহাড় ও সাগর তীরের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এই স্থাপনাটি উচ্ছেদের মাধ্যমে সৈকত রক্ষায় কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় ছয় কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট উচ্ছেদ ও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
- সৈকত সংলগ্ন সংরক্ষিত 'নো ডেভেলপমেন্ট জোন' বা উন্নয়ন নিষিদ্ধ এলাকার আইন অমান্য করে এক পাশে সাগর ও অন্য পাশে পাহাড়ের মাঝখানে রিসোর্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
- ফায়ার সার্ভিস বা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বর্তমানে কক্সবাজারের দেড় শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কক্সবাজারের ইনানী ও মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সমুদ্র সৈকতের সংরক্ষিত 'নো ডেভেলপমেন্ট জোন' বা উন্নয়ন নিষিদ্ধ এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত আনুমানিক ছয় কোটি টাকার একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এই অঞ্চলে পরিবেশ আইন এবং আদালতের নির্দেশনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক পাশে সাগর এবং অন্য পাশে পাহাড়ের পাদদেশে এই স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়েছিল। সম্প্রতি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ভারসাম্য নিয়ে তীব্র উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়।
পরিবেশবাদীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিয়মনীতি ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই মেরিন ড্রাইভের মতো সংবেদনশীল এলাকায় একের পর এক হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণ করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন পাহাড় কাটা পড়ছে, অন্যদিকে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও প্রবাল প্রাচীর মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। সম্প্রতি সৈকত সংলগ্ন এই সংরক্ষিত এলাকার আইন শিথিল করার বা প্রত্যাহারের বিভিন্ন মহলের অপচেষ্টা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
অভিযান পরিচালনাকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরিবেশ সুরক্ষায় এই ধরনের অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। আইন অমান্য করে নির্মিত অন্যান্য রিসোর্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধেও খুব শীঘ্রই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে কক্সবাজারের দেড় শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট ইতিমধ্যে মারাত্মক অগ্নিঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই উচ্ছেদ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজ। তাদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পর্যটন ব্যবসার নামে প্রকৃতি ধ্বংসের মহোৎসব বন্ধ না হলে অচিরেই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত তার অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ভৌগোলিক অস্তিত্ব হারাবে। দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের আইনানুগ পদক্ষেপ পর্যটন খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং টেকসই পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।