কলকাতায় উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমী। রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের ভিড়ে মুখরিত ছিল সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা। বাগবাজারসহ বিভিন্ন সর্বজনীন পুজোয় মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গঙ্গা ও অন্যান্য জলাশয়ে সম্পন্ন হয় প্রতিমা বিসর্জন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মণ্ডপে বিজয়া দশমীতে নারীদের ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
- বাগবাজার সর্বজনীনসহ রাজ্যের প্রধান পুজো মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে।
- দশমীর সকালে সিঁদুর খেলার পর্ব শেষে নির্ধারিত ঘাটগুলোতে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে কলকাতার মণ্ডপগুলোতে সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবের। বিজয়া দশমীর ভোরে ঘুমচোখে অঞ্জলি দেওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় দেবীকে বিদায় জানানোর আকুলতা। বাগবাজার সর্বজনীন, আদি বালিগঞ্জ সর্বজনীনসহ কলকাতার প্রতিটি ঐতিহ্যবাহী পুজো মণ্ডপে বিবাহিত নারীরা একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে মঙ্গল কামনা করেন। সিঁদুর খেলার এই আনন্দঘন মুহূর্তে মেতে ওঠে সব বয়সের নারী।
এবারের পুজোয় কলকাতার বিভিন্ন মণ্ডপের থিম এবং আলোকসজ্জা দর্শনার্থীদের মনে গভীর দাগ কেটেছে। বিশেষ করে শতবর্ষে পা রাখা আদি বালিগঞ্জ সর্বজনীনের থিম থেকে শুরু করে অন্যান্য মণ্ডপের বৈচিত্র্যময় শিল্পশৈলী দেখতে অষ্টমীর সন্ধ্যা থেকেই রাস্তায় নেমেছিল মানুষের ঢল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসন বিভিন্ন মণ্ডপের আশপাশে ও সংযোগ সড়কগুলোতে কঠোর নজরদারি বজায় রাখে।
সিঁদুর খেলা ও ধুনুচি নাচের বর্ণিল সমাপনী শেষে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা। বাবুঘাট সহ কলকাতার নির্দিষ্ট কয়েকটি ঘাটে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করে কলকাতা পৌরসংস্থা ও পুজো কমিটিগুলো। পুলিশের কড়া নিরাপত্তার পাশাপাশি রিভার্স পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘাটে মোতায়েন ছিল যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে।
বিজয়া দশমীর এই বিসর্জনের মধ্য দিয়ে প্রতিবারের মতো এবারও মর্ত্য ছেড়ে কৈলাশে ফিরে গেলেন দেবী দুর্গা। তবে আগামী বছরের জন্য নতুন করে অপেক্ষা শুরু হলো। বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের অংশ হিসেবে ঘরে ঘরে মিষ্টিমুখ এবং প্রবীণদের চরণস্পর্শ করে আশীর্বাদ নেওয়ার চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতি এদিন কলকাতার পাশাপাশি সারা রাজ্যে এক অন্যরকম সম্প্রীতির আবহ তৈরি করে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।