কলকাতায় হোটেল সংকট, ক্যান্সার রোগী নিয়ে রাস্তায় বাংলাদেশিরা
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"কলকাতার ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বহু বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনরা তীব্র আবাসন সংকটে পড়েছেন। কম খরচের বেশিরভাগ হোটেল বন্ধ থাকায় এবং চালু থাকা হোটেলগুলোর ভাড়া অত্যাধিক হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন। বৃষ্টি, মশা, এবং চুরির আতঙ্কের মধ্যে অসুস্থ রোগী নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা। সমস্যা সমাধানে দুই দেশের সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- তীব্র হোটেল সংকট: কলকাতায় কম খরচের হোটেলগুলো বন্ধ থাকায় এবং খোলা থাকা হোটেলগুলোতে দেড় থেকে দুই হাজার রুপি বা তার বেশি ভাড়া চাওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশিরা থাকার জায়গা পাচ্ছেন না।
- রাস্তায় মানবেতর জীবনযাপন: মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে ক্যান্সার রোগী ও তাদের স্বজনরা ঠাকুরপুকুর হাসপাতালের সামনের রাস্তায়, পলিথিনের নিচে বা চাদর মুড়ি দিয়ে রাত কাটাচ্ছেন। বৃষ্টি, মশা এবং শৌচাগার না থাকায় তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
- নিরাপত্তাহীনতা ও সহায়তা প্রার্থনা: রাস্তায় রাত কাটানোর কারণে ভুক্তভোগীরা তাদের টাকা, পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন চুরির আতঙ্কে রয়েছেন। পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে তারা বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের সরকারের কাছে দ্রুত সমাধানের আবেদন জানিয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কলকাতায় হোটেল সংকট, ক্যান্সার রোগী নিয়ে রাস্তায় বাংলাদেশিরা
কলকাতায় চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশি রোগীরা বর্তমানে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে কলকাতার ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতালের সামনে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য তৈরি হয়েছে। তীব্র আবাসন সংকটের কারণে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী এবং তাদের স্বজনরা বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে পলিথিন বা চাদর বিছিয়ে রাত কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, শহরের কম খরচের হোটেলগুলোর অধিকাংশই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। যে কয়েকটি হোটেল ঘর দিতে পারছে, তারা ভাড়ার নামে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার রুপি বা তারও বেশি দাবি করছে। চিকিৎসা করাতে এসে অতিরিক্ত এই ব্যয়ভার বহন করা অনেক সাধারণ রোগীর পক্ষেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সামর্থ্যের মধ্যে মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে হাসপাতালের সামনের রাস্তাই এখন তাদের একমাত্র ঠিকানা।
রাস্তায় রাত কাটানোর কারণে এই রোগীদের শারীরিক ও মানসিক দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বর্ষাকাল হওয়ায় মাথার ওপর কখনো বৃষ্টি পড়ছে, সেইসঙ্গে রয়েছে মশার উপদ্রব এবং ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুর তীব্র আশঙ্কা। আশেপাশে পর্যাপ্ত শৌচাগার না থাকায় পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। ব্যস্ত রাস্তার গাড়ির হর্ন, রাস্তার কাজের ধুলোবালি এবং দূষণের মধ্যেই যন্ত্রণাদায়ক রাত কাটছে ক্যান্সার রোগীদের।
বাংলাদেশ থেকে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে আসা এক নারী জানান, ক্যান্সার যন্ত্রণার পাশাপাশি এখন তাকে রাস্তার এই অমানবিক দুর্ভোগও সহ্য করতে হচ্ছে, যা তাকে ক্লান্ত করে ফেলেছে। আরেক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, অনেক টাকা খরচ করে তারা চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছেন, এখন মাঝপথে ফিরে যাওয়াও সম্ভব নয়। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ যদি এই হোটেল সংকটের বিষয়ে আগে জানাতো, তবে তারা হয়তো অন্য কোনো ব্যবস্থা করতে পারতেন।
অসুস্থতার পাশাপাশি রাস্তায় ঘুমানোর কারণে তাদের সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা। সাথে থাকা টাকা, পাসপোর্ট এবং মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা সর্বদা উৎকণ্ঠায় থাকছেন। গত আট বছর ধরে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে আসা এক রোগী জানান, চিকিৎসার জন্য এসে এবারই প্রথম তাকে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট নিরসনে ভুক্তভোগীরা বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় দেশের সরকারের কাছেই দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর সমাধানের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Banglanews24-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।