কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি জারিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। ২০২৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী ১৪৪ থেকে ২০৯টি ওয়ার্ডে বিন্যাস এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে সিপিআইএম নেতা দীপু দাসের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় এসেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে যে, ১৪৪ থেকে ২০৯টি ওয়ার্ডে পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশন কোনো নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে না।
- মামলাকারী সিপিআইএম নেতা দীপু দাসের অভিযোগ, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস জনসংখ্যার পরিবর্তে ভোটারের নিরিখে করা হয়েছে, যা আইনসম্মত নয় এবং এটি একতরফাভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
- বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের ৬ সপ্তাহের হলফনামা জমার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানানো হয়েছিল, যেখানে পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসানোর আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কলকাতা পুরসভার আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বড়সড় আইনি জট তৈরি হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এক অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছে, পুরসভার নতুন ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না। এই নির্দেশনার ফলে আপাতত পুরভোটের প্রক্রিয়া থমকে গেল।
মূল বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৬ সালের সংশোধনী, যার মাধ্যমে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করা হয়েছে। সিপিআইএমের প্রাক্তন কাউন্সিলর দীপু দাসের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়াটি আইনসম্মত নয়। বিরোধীদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস জনসংখ্যার ভিত্তিতে হওয়ার কথা থাকলেও, এখানে ভোটারের নিরিখে তা করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে প্রশ্ন তুলেছেন, পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর একজন প্রশাসক কীভাবে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এর আগে বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ রাজ্যকে হলফনামা জমার জন্য ৬ সপ্তাহ সময় দিলেও, কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করা হয়, যার প্রেক্ষিতেই বর্তমান স্থগিতাদেশটি এসেছে।
এই আইনি লড়াইয়ের ফলে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামো এবং নির্বাচনের ভবিষ্যৎ এখন আদালতের রায়ের ওপর নির্ভরশীল। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের এই জটিলতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।