৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"কম্পিউটারের প্রসেসর বা সিপিইউতে তড়িৎ পরিবাহিতা ও স্থায়িত্ব বাড়াতে স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়। ফিনিক্স রিফাইনিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের একটি পুরোনো কম্পিউটার বোর্ড থেকে ১ থেকে ৫ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণ পাওয়া সম্ভব হলেও আধুনিক স্মার্টফোনে এর পরিমাণ মাত্র ০ দশমিক ০৩৪ গ্রাম। তবে বিপজ্জনক রাসায়নিকের উপস্থিতির কারণে বাড়িতে এই ধাতু নিষ্কাশন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কম্পিউটারের সিপিইউ ও মাদারবোর্ডের বিভিন্ন পিন ও কানেক্টরে উচ্চ তড়িৎ পরিবাহিতা এবং জং ধরা প্রতিরোধ করতে স্বর্ণের প্রলেপ ব্যবহার করা হয়।
- ফিনিক্স রিফাইনিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের একটি কম্পিউটার বোর্ড থেকে ১ থেকে ৫ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণ সংগ্রহ করা যেত, যা আধুনিক স্মার্টফোনে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ০ দশমিক ০৩৪ গ্রামে।
- ১৯৮০-এর দশকে উৎপাদিত ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশে স্বর্ণের প্রলেপের পুরুত্ব ছিল প্রায় ১ মাইক্রোমিটার, যা বর্তমানে কমে শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ৫ মাইক্রোমিটারে নেমেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কম্পিউটারের কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বা সিপিইউ এবং এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশে স্বর্ণ ব্যবহারের বিষয়টি প্রযুক্তিপ্রেমী মাত্রেই কৌতূহলী করে তোলে। মূলত তড়িৎ প্রবাহের উচ্চ দক্ষতা, দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং বায়ুমণ্ডলে সহজে জারিত বা ক্ষয় না হওয়ার অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে মাইক্রোপ্রসেসর ও কানেক্টরে এই মূল্যবান ধাতু ব্যবহার করা হয়। তামার চেয়েও ভালো পরিবাহী হওয়ায় সংকেত আদান-প্রদানে এটি জিরো লস বা শূন্য অপচয় নিশ্চিত করে।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশে স্বর্ণের ব্যবহারের পরিমাণেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ফিনিক্স রিফাইনিংয়ের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯৮০-এর দশকে তৈরি কম্পিউটার যন্ত্রাংশে স্বর্ণের প্রলেপের পুরুত্ব যেখানে প্রায় ১ মাইক্রোমিটার ছিল, বর্তমানে তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ৫ মাইক্রোমিটারে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে আধুনিক যন্ত্রপাতির উৎপাদন ব্যয় যেমন কিছুটা কমেছে, তেমনি প্রতি ইউনিট পণ্যে মূল্যবান ধাতুর পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের একটি পুরোনো কম্পিউটার মাদারবোর্ড বা বোর্ড প্রক্রিয়াজাত করে ১ থেকে ৫ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব ছিল। বিপরীতে, বর্তমান যুগের একটি অত্যাধুনিক স্মার্টফোনে স্বর্ণের পরিমাণ মাত্র প্রায় ০ দশমিক ০৩৪ গ্রাম। তবে যন্ত্রের ধরন, মডেল ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নকশাভেদে এই পরিমাণের তারতম্য হতে পারে। অপর্যাপ্ত পরিমাণ ও ক্ষুদ্র আকৃতির কারণে সামান্য কিছু ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-বর্জ্য থেকে বাণিজ্যিকভাবে স্বর্ণ সংগ্রহ করা লাভজনক নয়।
ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-বর্জ্য থেকে স্বর্ণ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং এতে সায়ানাইডের মতো অত্যন্ত বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয়। তাই পেশাদার সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া বাড়িতে বা উন্মুক্ত স্থানে এই ধাতু গলানো বা নিষ্কাশনের চেষ্টা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবেশবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা নিরাপদ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে পুরোনো বা নষ্ট যন্ত্রাংশ সরাসরি রেজিস্টার্ড ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহারকারী বা সার্টিফাইড ধাতু পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Techworld Bangladesh-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।