২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গোৎসবে কলকাতার দক্ষিণ প্রান্তের মণ্ডপগুলোতে থিমের বৈচিত্র্য ও শৈল্পিক কারুকার্য ফুটে উঠেছে। বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের ৭৬তম বর্ষের থিম ‘যোজন’ এবং সমাজসেবী সংঘের মহানায়ক উত্তম কুমারকে নিবেদিত ‘মহাপূজায় মহানায়ক’ বিশেষ আকর্ষণ। এছাড়া শিব মন্দির, চেতলা অগ্রণী ও বড়িশা ক্লাবের মণ্ডপগুলোতে রাজস্থানী শিল্পকলা থেকে শুরু করে আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক বিবর্তন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন তাদের ৭৬তম বর্ষে শিল্পী সুশান্ত শিবানি পালের ভাবনায় ‘যোজন’ থিমটি উপস্থাপন করেছে, যেখানে সাবেকি ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটেছে।
- সমাজসেবী সংঘের মণ্ডপে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি উত্তম কুমারের স্মৃতি স্মরণে ‘মহাপূজায় মহানায়ক’ থিম এবং চালতাবাগান লোহাপট্টিতে আদিবাসী উল্কি ও ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে ‘নিশান’ থিম প্রদর্শিত হচ্ছে।
- ঠাকুরপুকুর এস বি পার্কে ‘বাংলার কয়লা খনি’ এবং নেতাজি সড়ক আঞ্চলিক অধিবাসীবৃন্দের মণ্ডপে ভারত ও চীনের বৌদ্ধ সংস্কৃতির মেলবন্ধনে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কলকাতার দক্ষিণ প্রান্তের দুর্গাপূজা মানেই থিমের লড়াই আর শৈল্পিক উৎকর্ষের প্রদর্শনী। ২০২৬ সালের উৎসবেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন তাদের ৭৬তম বর্ষে ‘যোজন’ থিমের মাধ্যমে আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের এক অনন্য রূপ ফুটিয়ে তুলেছে। অন্যদিকে, সমাজসেবী সংঘের মণ্ডপ সেজেছে মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মৃতিতে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মহাপূজায় মহানায়ক’। এই মণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এবারের পূজায় সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঠাকুরপুকুর এস বি পার্কের মণ্ডপে ‘বাংলার কয়লা খনি’ থিমের মাধ্যমে খনি শ্রমিকদের জীবনসংগ্রাম চিত্রায়িত হয়েছে। রাজডাঙ্গা নবোদয় সংঘ ‘শোধন’ এবং বেহালা ফ্রেন্ডস ক্লাব ‘শুদ্ধিকরণ’ থিমের মাধ্যমে আত্মিক পরিশুদ্ধির বার্তা দিচ্ছে। এছাড়া চালতাবাগান লোহাপট্টিতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রাচীন উল্কি বা ট্যাটু সংস্কৃতির ইতিহাস ‘নিশান’ থিমের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
আধ্যাত্মিক ও শৈল্পিক ভাবনায় চেতলা অগ্রণী ক্লাব ‘রূপে রূপিণী’ থিমে শ্রীকৃষ্ণ ও দেবী মহামায়ার মিলন ফুটিয়ে তুলেছে। বড়িশা ক্লাব ‘কাল রেখা’ থিমের মাধ্যমে সময়ের বিবর্তনকে তুলে ধরেছে। শিব মন্দির সর্বজনীনের মণ্ডপে রাজস্থানী শিল্পকলার রঙিন আবহ তৈরি করা হয়েছে। নেতাজি সড়ক আঞ্চলিক অধিবাসীবৃন্দ ভারত ও চীনের বৌদ্ধ সংস্কৃতির ঐতিহাসিক যোগসূত্রকে মণ্ডপসজ্জার মূল উপজীব্য করেছে।
কলকাতার এই থিমভিত্তিক পূজাগুলো কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি একটি বিশাল উন্মুক্ত শিল্প প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে। পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে এই উৎসবের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতার এই বড় বাজেটের পূজাগুলো সৃজনশীলতা ও কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বাঙালি সংস্কৃতির জয়গান গাইছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও দর্শনার্থী আকর্ষণে সক্ষম হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।