জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে যুক্ত হওয়া এবং বর্তমান বিরোধী রাজনৈতিক ধারায় সক্রিয় থাকায় কওমি অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে গঠিতব্য সাতদলীয় নতুন জোটে অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে না থাকার শর্ত নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ চলছে। আগামী ২২ অক্টোবর পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে যুক্ত হয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং বর্তমানে বিরোধী দলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
- হেফাজতের উদ্যোগে কওমিপন্থি সাতটি দল নিয়ে গঠিতব্য নতুন ঐক্যের খসড়া নীতিমালায় অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে না থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টির আপত্তি রয়েছে।
- মাওলানা মামুনুল হকের রাজনৈতিক অবস্থান ও জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি ৪২ পৃষ্ঠার বই প্রকাশিত হয়েছে, যার জেরে কওমি অঙ্গন ও বিভিন্ন ইসলামিক দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত মুখ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক হিসেবে রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন। তবে জামায়াতের সঙ্গে তার এই রাজনৈতিক বোঝাপড়া এবং ১১ দলীয় ঐক্যে তার অবস্থান কওমি অঙ্গনের ভেতরেই বড় ধরনের বিভক্তি ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হেফাজতে ইসলামের একাংশ মনে করছে, মামুনুল হকের এই জামায়াতপন্থী অবস্থান কওমি ধারার রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর এবং এর প্রভাবে অনেক তরুণ দলটির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে, যা রোধ করা প্রয়োজন।
এরই মধ্যে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমিপন্থি সাতটি দল নিয়ে একটি পৃথক রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে উত্থাপিত খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, এই নতুন জোটে যুক্ত হলে অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে থাকার সুযোগ থাকবে না। খসড়ার এই শর্ত নিয়ে মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি আপত্তি জানিয়েছে। তাদের দাবি, ধর্মীয় বিষয়ে সমন্বয়ের ভিত্তিতে ঐক্য হতে পারে, তবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার নিজ নিজ দলের হাতেই থাকতে হবে। আগামী ২২ অক্টোবরের নির্ধারিত বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা থাকলেও প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে ঐকমত্যের সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ।
মাওলানা মামুনুল হকের রাজনৈতিক গতিপথ ও জামায়াতের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি লেখক শাকের হোসাইন শিবলির লেখা ৪২ পৃষ্ঠার একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বইটির প্রকাশনা এবং এর প্রচারে ‘ঈমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটির’ নাম ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত আন্দোলন কিংবা সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে এই বইয়ের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের দলীয় বা ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। কওমি অঙ্গনের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতাও ব্যক্তিগত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এমন প্রচারণার সমালোচনা করে বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলে তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা উচিত, কোনো আলেমের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার গ্রহণযোগ্য নয়।
নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত বই ও চলমান রাজনৈতিক চাপের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মাওলানা মামুনুল হক স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, এ ধরনের অপপ্রচার বা বই লিখে তাদের আদর্শিক অগ্রযাত্রা ও কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। তিনি দাবি করেন, দেশের স্বার্থেই তারা জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করেছেন, কোনো আকিদাগত কারণে নয়। এদিকে কওমি অঙ্গনের এই অভ্যন্তরীণ মেরুকরণ ও নতুন জোট গঠনের প্রক্রিয়ার টানাপোড়েন জাতীয় রাজনীতিতে এবং ধর্মীয় দলগুলোর ভবিষ্যৎ সমীকরণে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।