কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ও মূল ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কায় প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের বাজার মূল্যে বড় ধস নেমেছে। এর ফলে মার্কিন শেয়ার বাজারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি হ্রাস পাওয়ায় প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, যা বিশ্ব প্রযুক্তি বাজারে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগের কারণে গুগলের মূল ব্যবসায় সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কায় অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
- এই ধসের ফলে মার্কিন শেয়ার বাজারে অ্যালফাবেট এক ধাক্কায় প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ বাজার মূল্য হারিয়েছে।
- গুগলের পাশাপাশি মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের মতো শীর্ষস্থানীয় টেক জায়ান্টগুলোও তাদের এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের জেরে যৌথভাবে ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে আকস্মিক ও বিশাল বিনিয়োগের জেরে বিশ্ব প্রযুক্তি বাজারে বড় ধরনের ওলটপালট শুরু হয়েছে। মার্কিন শেয়ার বাজারে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় কোম্পানিটি মাত্র এক ধাক্কায় প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। এই আকস্মিক দরপতন কেবল গুগলকেই নয়, বরং পুরো ওয়াল স্ট্রিট এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ঐতিহ্যবাহী সার্চ ইঞ্জিন ও ক্লাউড ব্যবসার লভ্যাংশ এআই প্রযুক্তির পেছনে নির্বিচারে ঢেলে দিচ্ছে। জেনারেটিভ এআই-এর অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার খরচ অত্যন্ত চড়া হওয়ায় এবং এর দীর্ঘমেয়াদি মুনাফা এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে এক ধরণের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। গুগল ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আমাজন এবং মাইক্রোসফটের মতো ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিগুলো, যারা এআই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গিয়ে সম্মিলিতভাবে ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি আর্থিক মূল্যের ওঠানামার মুখোমুখি হয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি এবং মাইক্রোসফটের কোপাইলটের বাজার দখলের লড়াইয়ে গুগলকে বাধ্য হয়ে তাদের সার্চ ইঞ্জিনে জেমিনিসহ বিভিন্ন এআই ফিচার যুক্ত করতে হচ্ছে। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী বিজ্ঞাপনের আয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে এবং সার্চ প্রতি খরচ (কস্ট পার কুয়েরি) বহুগুণ বেড়ে গেছে। গুগল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে যে, দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য এই রূপান্তর অনিবার্য, যদিও স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
এই পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তির স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে। বিনিয়োগকারীরা এখন আর কেবল অন্ধভাবে এআই-এর নাম শুনে অর্থ বিনিয়োগ করছেন না, বরং প্রতিটি কোম্পানির ত্রৈমাসিক আয়ের হিসাব ও প্রকৃত মুনাফা নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করছেন। গুগলের এই ৫০০ বিলিয়ন ডলারের ধাক্কা প্রমাণ করে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপ্লব যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, এর আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সঠিক ব্যবসায়িক মডেল ছাড়া টেক জায়ান্টগুলোর জন্যও পথ চলা সহজ নয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।