কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও পরিচালনা ব্যয় কমাতে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট, যা তাদের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২৫ শতাংশ। সোমবার প্রকাশিত এই ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত ও ব্রিটেনের নির্দিষ্ট কিছু বিভাগের কর্মীরা এই সুযোগের আওতাভুক্ত থাকবেন। চলতি বছরে এটি প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় দফার স্বেচ্ছায় বিদায় প্রস্তাব।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২৫ শতাংশ বা প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে মাইক্রোসফট।
- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত ও ব্রিটেনের নির্দিষ্ট দলের কর্মীরা এই প্রস্তাবের আওতাভুক্ত হলেও ডেটা সেন্টার, বিক্রয় এবং বিপণন বিভাগের কর্মীরা এই সুযোগ পাবেন না।
- চলতি বছরের জুনের শেষ নাগাদ মাইক্রোসফটের বিশ্বব্যাপী মোট কর্মীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজারে, যা ২০২৫ সালের শেষে ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগ ব্যাপকহারে বাড়াতে এবং পরিচালনা খরচ কমাতে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার বা ‘ভলান্টারারি সেপারেশন’ প্রস্তাব দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট। সোমবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই প্রস্তাবটি তাদের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২৫ শতাংশের সমতুল্য। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত এবং ব্রিটেনের নির্দিষ্ট কিছু দল ও পদের কর্মীরা এই প্রস্তাবের আওতাভুক্ত হবেন। তবে ডেটা সেন্টার পরিচালনা, বিক্রয় এবং বিপণন বিভাগে কর্মরত কর্মীরা এই সুবিধার বাইরে থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং তার নিচের পদের কর্মীরা এই স্বেচ্ছায় বিদায় নেওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারবেন। কর্মীদের কাছে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে মাইক্রোসফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান অ্যামি কোলম্যান উল্লেখ করেন, কর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে অধিকতর নমনীয়তা এবং নতুন পেশাগত সুযোগ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরে এটি মাইক্রোসফটের দ্বিতীয় দফার স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব। এর আগে গত এপ্রিল মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭ শতাংশ কর্মীকে আগাম অবসরের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ যোগ্য কর্মী সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন।
সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ মাইক্রোসফটের বিশ্বব্যাপী মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার। তবে বিভিন্ন ছাঁটাই ও পদত্যাগের ফলে চলতি বছরের জুনের শেষে তা কমে ২ লাখ ২৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগেই কর্মী সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে মাইক্রোসফট তাদের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করতে যাচ্ছে, যেখানে এআই খাতের বিনিয়োগ এবং এই কর্মী সংকোচন নীতির প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রাধান্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। প্রথাগত সফটওয়্যার নির্ভরতা কমিয়ে এআই প্রযুক্তির গবেষণা ও অবকাঠামো উন্নয়নে নিজেদের সর্বশক্তি নিয়োগ করছে এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই বিশাল সংখ্যক কর্মীর বিদায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বাজারে কর্মসংস্থানের গতিপ্রকৃতি এবং মাইক্রোসফটের কর্পোরেট সংস্কৃতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।