৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত রাষ্ট্রসংস্কারের সম্ভাবনা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের কারণে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জবাবদিহিতা বৃদ্ধিকারী আইনগুলো রহিত করা হয়েছে এবং বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কারের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতাকে জবাবদিহিহীনভাবে শক্তিশালী করার আইনগুলো পাস হলেও জবাবদিহিতা সহায়ক অধ্যাদেশগুলো রহিত বা স্থগিত করা হয়েছে।
- সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করা হয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংশোধন অধ্যাদেশ বাদ দিয়ে ২০০৪ সালের পূর্বের আইনে ফিরে যাওয়ায় এর সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
- র্যাব বিলুপ্তির প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও নতুন নামে এ সংস্থাকে আরও ক্ষমতায়িত করা হয়েছে এবং স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন কিংবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ একটি জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে অভূতপূর্ব সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল, তা বর্তমানে ক্ষমতার ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ শুক্রবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত রাষ্ট্রসংস্কারের দায়িত্ব বাস্তবায়নে কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ও সৎসাহসের ঘাটতির পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধের মুখে পড়ার কারণে রাষ্ট্রসংস্কারের কাঙ্ক্ষিত ভিত্তি তৈরি হতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতার প্রভাবে আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও আমলাতান্ত্রিক ইকোসিস্টেমের একচ্ছত্র দখল চর্চার হাতবদলের ফলে রাষ্ট্রসংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দৃশ্যত চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রসংস্কার এখন ক্ষমতাসীন জোটের একচ্ছত্র ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে বিরোধী জোটও জনস্বার্থে রাষ্ট্রসংস্কারে সহায়ক ভূমিকার পথ ছেড়ে দলীয় রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত রয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সুনির্দিষ্ট করে জানান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ও বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করার মাধ্যমে সরকার সংস্কারের বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া সব রাজনৈতিক দলের মতৈক্য থাকা সত্ত্বেও দুদক সংশোধন অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে বিল পাস না করে ২০০৪ সালের পুরোনো আইনে ফিরে যাওয়ায় এবং গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিল করে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী সংস্থাকে সুরক্ষা দেওয়ায় জনআকাঙ্ক্ষা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
সংস্থাটি মনে করে, গণতন্ত্র, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধে জুলাই সনদ প্রণয়নে যে নজিরবিহীন রাজনৈতিক মতৈক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছিল, রাষ্ট্রসংস্কারের অভিষ্ট অর্জনে সব রাজনৈতিক দলকে পুনরায় অনুরূপ সদিচ্ছা ও প্রজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে। অন্যথায় জুলাই অভ্যুত্থানের মূল অভীষ্ট তথা একটি দায়বদ্ধ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দ্য ডেইলি স্টার বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।