৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৮৪তম অবস্থানে রয়েছে। ১৯ দশমিক ২ স্কোর নিয়ে দেশটি এখনো ‘মাঝারি মাত্রার’ ক্ষুধার শ্রেণিতে অবস্থান করছে। ২০১৮ সালের তুলনায় খর্বাকৃতির শিশুর হার কমে ২৪ শতাংশে নামলেও, তীব্র অপুষ্টির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে, যা ২০০০ সালের পর সর্বোচ্চ।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে (জিএইচআই) ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম এবং এ বছর দেশের স্কোর ১৯ দশমিক ২।
- শিশুদের খর্বাকৃতির হার ২০১৮ সালের ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ২৪ শতাংশে নামলেও তীব্র অপুষ্টির হার বেড়ে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
- দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১, পাকিস্তানের ২৫ দশমিক ৫ এবং নেপালের স্কোর ১৪ দশমিক ৫, যেখানে সামগ্রিক আঞ্চলিক স্কোর ২৩ দশমিক ৫।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে (জিএইচআই) ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৮৪তম স্থান অর্জন করেছে। ক্ষুধা নিরসনের এই আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে বাংলাদেশের বর্তমান স্কোর ১৯ দশমিক ২, যার ফলে দেশটি এখনো ‘মাঝারি মাত্রার’ ক্ষুধার শ্রেণিতে অবস্থান করছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০১৮ সালের পর থেকে ক্ষুধা নিরসনে দেশের অগ্রগতির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে পড়েছে। ২০১৮ সালের পর স্কোরের উন্নতি হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ, অথচ ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এই উন্নতির হার ছিল ৪২ শতাংশের বেশি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিক কিছু সূচকে উন্নতি দেখা গেলেও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এখনো বড় উদ্বেগের কারণ। সর্বশেষ মূল্যায়নে শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার বেড়ে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৮ সালে ছিল ৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং এটি ২০০০ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে দীর্ঘমেয়াদি অর্জনের অংশ হিসেবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের খর্বাকৃতির হার ২০১৮ সালের ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ২৪ শতাংশে নেমেছে। এছাড়া অপুষ্টিতে ভোগা জনসংখ্যার অনুপাত ১২ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ২ শতাংশ এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশ হয়েছে।
খর্বাকৃতির হার কমার পেছনে বিশেষজ্ঞদের মতে মায়েদের শিক্ষার অগ্রগতি, পরিবারের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, উন্নত স্যানিটেশন এবং জনমিতিক পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। জিএইচআই মূলত অপুষ্টি, শিশুদের তীব্র অপুষ্টি, খর্বাকৃতি এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার—এই চারটি মূল সূচকের ওপর ভিত্তি করে ক্ষুধার তীব্রতা নির্ধারণ করে থাকে, যেখানে স্কোর যত কম হয় দেশের পরিস্থিতি তত উন্নত বলে গণ্য করা হয়।
দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে তুলনামূলক বিশ্লেષণে দেখা যায়, ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১, পাকিস্তানের ২৫ দশমিক ৫ এবং আফগানিস্তানের ২৮ দশমিক ৬, যা এই দেশগুলোকে ‘গুরুতর’ ক্ষুধার শ্রেণিতে রেখেছে। অন্যদিকে, নেপালের স্কোর ১৪ দশমিক ৫ এবং শ্রীলঙ্কার ১০ দশমিক ২ নিয়ে মাঝারি শ্রেণিতে রয়েছে। সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার গড় স্কোর ২৩ দশমিক ৫ হওয়ায় এই অঞ্চলটি সামগ্রিকভাবে গুরুতর ক্ষুধার ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে, যার বৈশ্বিক গড় স্কোর ১৮ দশমিক ১।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দ্য ডেইলি স্টার বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।