মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার হয়েছে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য গ্যাংস্টার হ্যারি বক্সার। শনিবার খুন, হুমকি ও তোলাবাজির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। ধৃত হ্যারি এর আগে মুম্বইতে বলিউড পরিচালক রোহিত শেট্টির বাড়ির বাইরে সংঘটিত গুলিবর্ষণের ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র দমনে এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য গ্যাংস্টার হ্যারি বক্সারকে শনিবারে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে খুন, হুমকি এবং তোলাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে।
- ধৃত হ্যারি বক্সার এর আগে দাবি করেছিল যে, মুম্বইতে চলচ্চিত্র নির্মাতা রোহিত শেট্টির বাসভবনের বাইরে চালানো গুলিবর্ষণের ঘটনার নেপথ্যে সে ও তার সহযোগীরা যুক্ত ছিল।
- সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হরিয়ানা ও দিল্লির মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার হিমাংশু ভাউ এবং নীরজ ফরিদপুরিয়াকেও গ্রেফতার করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে বড় অগ্রগতি।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অন্যতম সদস্য গ্যাংস্টার হ্যারি বক্সার। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে তাকে আটক করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে খুন, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের বা তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ থেকে এই গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল এই যুবক।
এর আগে ভারতের মুম্বইতে বলিউডের খ্যাতনামা পরিচালক রোহিত শেট্টির বাসভবনের বাইরে রহস্যজনকভাবে গুলি চলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু অডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে পরিচালককে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। গ্যাংয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অভিযোগ তুলে রোহিত শেট্টিকে ওই হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে হ্যারি বক্সার ও তার সহযোগীরা ওই হামলার দায় স্বীকার করে এবং এটিকে একটি 'ছোট ট্রেলার' বলে উল্লেখ করে।
তদন্তে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বলিউড অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। বর্তমানে ভারতের সবরমতী জেলে বন্দি থাকলেও গ্যাংয়ের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সচল রয়েছে। এর আগে গত ২২ অক্টোবর লাস ভেগাসে হরিয়ানা পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্যাংস্টার হিমাংশু ভাউ এবং নীরজ ফরিদপুরিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি ছিল।
মার্কিন মাটিতে ভারতীয় গ্যাংস্টারদের পরপর এমন গ্রেফতারের ঘটনা আন্তর্জাতিক অপরাধের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সহযোগিতার এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বলিউড ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার এসব অপচেষ্টা এবং গ্যাং কালচারের বিস্তার রোধে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অপরাধজগতের আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটগুলোর ওপর বড় ধরনের আঘাত হানবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।