আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধাক্কার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ায় ইরান ভারত, চিন, ইরাক ও কাতারের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও ভারতের বাজারে এলপিজি গ্যাসের দামে এখনও বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। নভেম্বরের শুরুতে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম সামান্য বাড়লেও গৃহস্থালির গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে ইরান ভারত, চিন, ইরাক ও কাতারের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।
- নভেম্বরের শুরুতেই ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দিল্লিতে ১০ টাকা, মুম্বইতে ১০.৫০ টাকা, কলকাতায় ১৭ টাকা এবং চেন্নাইতে ১১.৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ১৪.২ কেজির ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সর্বশেষ গত ২০২৬ সালের ৭ই জুন ২৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং তারপর থেকে তা সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন রাজনীতিতে রিপাবলিকান পার্টির সাম্প্রতিক ধাক্কা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হ্রাসের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব বাণিজ্যে। আমেরিকার মিড টার্ম ভোটের ফলাফলের পর মধ্যপ্রাচ্যে সমঘাত প্রশমনের প্রত্যাশায় ইরান একটি বড় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ভারত, চিন, ইরাক ও কাতার—এই চার দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য রুটটি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, যা এশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার এই প্রবণতার পর ভারতের বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কমা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারি বা তেল বিপণন সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিগত পরিবর্তন আসেনি। চলতি মাসের শুরুতেই এক লাফে বেশ খানিকটা বাড়ানো হয়েছে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। এর ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ১৯ কেজি ওজনের বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দেশের বিভিন্ন শহরে বিভিন্ন পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে দিল্লিতে ১০ টাকা, মুম্বইতে ১০.৫০ টাকা, চেন্নাইতে ১১.৫০ টাকা এবং বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কলকাতায় সর্বোচ্চ ১৭ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের এই মূল্যবৃদ্ধি হোটেল, ধাবা ও রেস্তোরাঁ ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দেবে, যার ফলে সাধারণ মানুষের বাইরে খাওয়ার খরচও প্রভাবিত হতে পারে।
অন্যদিকে, সাধারণ গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে স্বস্তি বজায় রয়েছে। ১৪.২ কেজি ওজনের ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দামে সর্বশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছিল গত ২০২৬ সালের ৭ই জুন, যেদিন প্রতি সিলিন্ডারে ২৯ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। সেই থেকেই গৃহস্থালির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে। হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হওয়ার বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব আগামী দিনে ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি আনতে পারে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।