৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"দুর্গাপুজোয় সিপিএমের বইয়ের স্টল দেওয়া নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশকে কড়া বার্তা দিয়েছে। বিচারপতি লটারির দোকান নয়, বইয়ের দোকান দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ না করার পক্ষে মত দেন। পূর্ত দফতরের জায়গায় স্টল বসানোর বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ দুর্গাপুজোয় সিপিএমের বুকস্টল করার পক্ষে জোরালো মন্তব্য করে রাজ্যকে কড়া বার্তা দিয়েছে।
- বিচারপতি মন্তব্য করেন যে সিপিআইএম লটারির দোকান দিচ্ছে না, বইয়ের দোকান দিচ্ছে, তাই এ নিয়ে প্রশাসনের অযথা বাধা দেওয়া উচিত নয়।
- পূর্ত দফতরের মালিকানাধীন জায়গায় স্টল স্থাপন সংক্রান্ত এই মামলায় আদালত পুলিশের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দুর্গাপুজোর উৎসবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বইয়ের স্টল দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতায় বড়সড় মোড় নিল কলকাতা হাই কোর্ট। দুর্গাপুজোর সময়ে বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় সিপিএমের পক্ষ থেকে ঐতিহ্যগতভাবে বইয়ের স্টল বা বুকস্টল দেওয়ার অনুমতি চেয়েছিল দলটি। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সেই অনুমতি আটকে দেওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার ডিভিশন বেঞ্চের দারস্থ হয়েছিল, যা নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়।
মামলার শুনানিকালে আদালত অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, বিরোধী রাজনৈতিক দল হলেও তাদের সাংস্কৃতিক ও প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। বিচারপতি শুনানির সময় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, "লটারির দোকান তো দিচ্ছেন না, বইয়ের দোকান দেবেন, অসুবিধা কী?" আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায় যে, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার মানসিকতা থেকে প্রশাসন যেন দূরে থাকে। যে জায়গায় স্টল দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে, সেটি মূলত পূর্ত দফতরের অধীনে হওয়ায় জমির মালিকানা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে পুুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিপিএমের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি দেখানো হয় যে, দীর্ঘ বছর ধরে পুজো মণ্ডপের আশপাশে তারা বইয়ের স্টল দিয়ে আসছেন এবং এটি তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে নিরাপত্তার কারণ ও জনস্বার্থের দোহাই দিয়ে স্টল বসানোর বিরোধিতা করা হয়। তবে হাই কোর্ট প্রশাসনের এই যুক্তি পুরোপুরি গ্রহণ করেনি এবং এ বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট তলব করেছে। পুজো কমিটির অনুমোদন এবং জনবহুল এলাকায় যান চলাচল বিঘ্নিত না হওয়ার শর্ত সাপেক্ষে এই স্টলগুলি চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে এই রায় ও আদালতের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে একদিকে যেমন বিরোধী দলগুলি তাদের রাজনৈতিক ও আদর্শ প্রচারের সুযোগ ফিরে পাওয়ার আশা দেখছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক অতিউৎসাহী আচরণের বিরুদ্ধেও একটি আইনি বার্তা পৌঁছে গেল। পুজোর দিনগুলিতে এই স্টলগুলি বসলে বামপন্থী দলগুলির সাংস্কৃতিক প্রচার পুনরায় গতি পাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Anandabazar Patrika-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।