সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাহবুবুর রহমান খান তার সাম্প্রতিক লেখায় দেশের ধর্মীয় রাজনীতির নানা দিক নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের অন্তিম যাত্রায় বাধা দেওয়া বা দাফন নিয়ে রাজনীতি করার প্রবণতাকে তিনি অমানবিক ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ ধরনের সংকীর্ণ মানসিকতা সমাজ ও সংস্কৃতির জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মত দেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মাহবুবুর রহমান খান তার নিবন্ধে ধর্মীয় রাজনীতির নামে মানুষের মৃত্যুর পরেও বিভাজন সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
- ধর্মীয় পরিচয়ের অজুহাতে মৃত ব্যক্তির দাফনে বাধা দেওয়ার সংস্কৃতিকে তিনি রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও চরম অমানবিকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
- এ ধরনের সংকীর্ণ রাজনীতি সমাজের সামাজিক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাহবুবুর রহমান খান সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় রাজনীতির নানামুখী অপব্যবহার নিয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে মানুষের মৃত্যুর পর তার দাফন বা অন্তিম সৎকারে বাধা দেওয়ার যে অমানবিক সংস্কৃতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তার কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। তার মতে, ধর্মের লেবাস পরে যারা রাজনীতি করেন, তারা মৃত্যুর পবিত্রতা পর্যন্ত রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনায় মৃত ব্যক্তির মরদেহ নিয়ে রাজনীতি করার প্রবণতা বেড়েছে, যা স্বাধীন সমাজে কোনোভাবেই কাম্য নয়। ধর্মীয় রাজনীতির তথাকথিত ঠিকাদাররা নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগ ও সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করছেন। এর ফলে শুধু ব্যক্তি বা পরিবারই হয়রানির শিকার হচ্ছে না, বরং পুরো জাতির নৈতিক ভিত নড়ে যাচ্ছে।
বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও মাহবুবুর রহমান খানের এই মতের সাথে একমত পোষণ করে বলেছেন যে, দাফনে বা অন্তিম যাত্রায় বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো আইনের শাসন এবং সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় নির্দেশ করে। এ ধরনের অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
এই ধরনের সংকীর্ণ রাজনৈতিক চর্চা চলতে থাকলে দেশের সামগ্রিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে বলে নিবন্ধে জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।